ছাগল চুরি করতে এসে গ্রামবাসীদের হাতে ধৃত দুই যুবক, গণধোলাইয়ের পর পুলিশের হাতে তুলে দিলেন স্থানীয়রা

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

 হরিরামপুর ১৪ সেপ্টেম্বর
দক্ষিণ দিনাজপুর।এলাকায় গরু, বাছুর, ছাগল-সহ গবাদি পশু চুরির অভিযোগ ছিল তাঁদের বিরুদ্ধে।নিজেদের দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার কুশমণ্ডি থানা এলাকার পাড়া-মহল্লায় একের পর এক চুরির অভিযোগ ওঠার পর এবার এলাকা ছেড়ে হরিরামপুরে ছাগল চুরি করতে এসে গ্রামবাসীদের হাতে ধরা পড়ল দুই যুবক।সোমবার দিনদুপুরে ছাগল চুরি করে পালানোর সময় তাঁদের ধরে ফেলেন স্থানীয় বাসিন্দারা।অভিযোগ, এরপর দুই যুবককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে হরিরামপুর থানার বৈরহাট্টা গ্রাম পঞ্চায়েতের চাকদা গ্রামে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম শাকিল হোসেন (২৭) এবং দিলদার হোসেন (২৫)। দু’জনেরই বাড়ি কুশমণ্ডি থানা এলাকায়।অভিযোগ, সোমবার দিনের বেলায় চাকদা গ্রামের এক বাসিন্দার বাড়ি থেকে দুটি ছাগল চুরি করে নিয়ে পালাচ্ছিল ওই দুই যুবক। বিষয়টি নজরে আসে স্থানীয় বাসিন্দাদের। এরপর তাঁরা ধাওয়া করে দুই যুবককে দুটি ছাগল-সহ হাতেনাতে ধরে ফেলেন।পরে তাঁদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
স্থানীয় দুই বাসিন্দা আতাউর রহমান, রোশন আলমেরা অভিযোগ করে বলেন, ‘‘গ্রামে এর আগেও একাধিক চুরির ঘটনা ঘটেছে। মোটরবাইক নিয়ে চোরের দল এলাকায় ঘোরাফেরা করে বলে অভিযোগ।এবার দু’জনকে হাতেনাতে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’’
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় হরিরামপুর থানার পুলিশ।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি দুই যুবককে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করেছে।সোমবার তাঁদের গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। তদন্তের স্বার্থে ধৃতদের পাঁচ দিনের পুলিশি রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে,ধৃত দুই যুবকের বিরুদ্ধে কুশমণ্ডি এলাকায় গবাদি পশু-সহ বিভিন্ন সামগ্রী চুরির অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।গত এক বছরে ওই এলাকায় একাধিক গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি চুরির অভিযোগের সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগ রয়েছে কি না,সেটিও তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে।
ধৃতদের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তাঁদের পিছনে কোনও চোরচক্র কাজ করছে কি না এবং চুরি করা গবাদি পশু কোথায় নিয়ে যাওয়া হত সেই সমস্ত বিষয়ও খতিয়ে দেখছে হরিরামপুর থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *