গঙ্গারামপুর এর সৈয়দপুর মৌজায় কৃষিজমিতে ৩৩ কেভি লাইনের পোল বসানো নিয়ে ক্ষোভ কৃষকদের মধ্যে, দপ্তরে জানিয়ে সুরাহা না হওয়ায় আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ক্ষুব্ধ কৃষকদের

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

বালুরঘাট ২৭ সেপ্টেম্বর।জোর করে কৃষিজমির উপর দিয়ে জোরপূর্বক ৩৩কেভি বিদ্যুৎ লাইনের পোল বসানোর অভিযোগকে কেন্দ্র করে ক্ষোভে ফুঁসছেন জমির মালিক তথা কৃষকেরা। সমস্যা সমাধান না হলে বড়সড় আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তাঁরা। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর ব্লকের সৈয়দপুর মৌজার। কৃষকদের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ দফতর থেকে শুরু করে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে লিখিতভাবে জানানো হলেও তাঁদের সমস্যার সমাধান হয়নি।
স্থানীয় কৃষকদের দাবি, সৈয়দপুর মৌজার প্রায় ১৫-২০টি কৃষক পরিবারের জমির উপর দিয়ে বিদ্যুতের পোল বসানো হয়েছে। ওই জমিগুলির উপর নির্ভর করেই কয়েকশো মানুষের জীবিকা চলে।ফলে কৃষিজমির উপর দিয়ে বিদ্যুতের পোল ও তার নিয়ে যাওয়া হলে চাষাবাদের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও থেকে যাবে বলে অভিযোগ তাঁদের।জমির উৎপাদনশীলতা ও মূল্য কমে যাওয়ার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছেন কৃষকেরা।
জেলা বিদ্যুৎ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গঙ্গারামপুর থানার গচিয়ার হয়ে সৈয়দপুর মৌজার একটি খাড়ির পাশ দিয়ে বিদ্যুতের পোল বসিয়ে তপনের দিকে সংযোগ নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। ঠিকাদারের অধীনে ওই কাজের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।কৃষকদের অভিযোগ,কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই তাঁরা বিকল্পভাবে খাড়ির পাশ দিয়ে বিদ্যুতের লাইন নিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছেন।
সৈয়দপুর মৌজার জমির মালিক তথা কৃষিজীবী মোকসেদ সরকার, সুখময় কর্মকার, নিশ্চিত কর্মকার, অভিজিৎ কর্মকার, বিভাস দাসদের অভিযোগ, “আমাদের ১৫-২০জন মালিকের জমির উপর দিয়ে জোর করে বিদ্যুতের পোল বসিয়ে দিয়েছে ঠিকাদার ও দপ্তর।এখন রাতারাতি সেখানে তার জুড়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস থেকেই জেলা বিদ্যুৎ দপ্তর, মহকুমা বিদ্যুৎ দপ্তর, গঙ্গারামপুর বিদ্যুৎ দফতর থেকে শুরু করে বিডিও অফিস পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ জানিয়েছি।খাড়ির পাশ দিয়ে পোল ও তার নিয়ে যাওয়ার দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের সমস্যার সমাধান হয়নি।তাই বাধ্য হয়ে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।কৃষকদের আরও অভিযোগ,কৃষিজমির উপর দিয়ে বিদ্যুতের লাইন গেলে চাষের কাজে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যুতের লাইনের কারণে ভবিষ্যতে দুর্ঘটনার আশঙ্কা এবং জমির ব্যবহার ও মূল্য নিয়েও সমস্যা তৈরি হতে পারে।”
এবিষয়ে গঙ্গারামপুর ব্লক বিদ্যুৎ দফতরের আধিকারিক মনজিৎ ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি জেলা স্তরের আধিকারিকদের নজরে রয়েছে বলে জানান। বুনিয়াদপুরের ডিভিশনাল ম্যানেজার জয়ন্ত পাণ্ডা বলেন,“বিষয়টি জেলা পর্যায়ের আধিকারিক বলতে পারবেন।তবে আপনি যখন জানালেন, তখন এটুকু বলতে পারি যে জোর করে কোনও কিছুর জন্য জমির উপর দিয়ে বিদ্যুতের পোল বসানো যায় না। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব এবং জেলাকে জানাব।”
গঙ্গারামপুরের বিজেপি বিধায়ক সত্যেন্দ্রনাথ রায় বলেন,“কৃষকদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও কী করে এমন ঘটনা ঘটে গেল,তা খতিয়ে দেখতে হবে। আমি এখন কলকাতায় রয়েছি। ফিরে গিয়ে বিষয়টি দেখছি।”
গঙ্গারামপুর ব্লকের বিডিও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।”
এখন দেখার,সৈয়দপুর মৌজার কৃষকদের অভিযোগের কতটা বাস্তব ভিত্তি রয়েছে এবং বিদ্যুৎ দফতর ও প্রশাসন কীভাবে বিষয়টির সমাধান করে। কৃষকদের বক্তব্য, তাঁদের দাবি মেনে বিকল্প পথে বিদ্যুতের লাইন নিয়ে যাওয়া না হলে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *