বালুরঘাট, ৫ অক্টোবর।
দক্ষিণ দিনাজপুরের বুনিয়াদপুরের সুকান্ত ভবনে কর্মীসভা করার কথা ছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তবে অনুমতি না মেলায় গঙ্গারামপুরের নন্দনপুরে তৃণমূল নেতা মৃণাল সরকারের বাড়িতে কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক চলাকালীনই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মোবাইলে ফোন করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফোনে কর্মীদের উদ্দেশে একাধিক রাজনৈতিক বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
বৈঠকে দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা বিপ্লব মিত্রকে তীব্র আক্রমণ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “খাম চিহ্ন যাঁদের আছে, তাঁদের শেষ করতে হবে। বিপ্লব মিত্র জীবনে কারও উপকার করেননি। শুধু নিজের এবং ভাইয়ের কথা ভেবেছেন। বিপ্লব মিত্রের জন্যই দক্ষিণ দিনাজপুর নষ্ট হয়েছে। প্রত্যেক বছর লোকসভা আসন হারার পিছনেও তাঁর ভূমিকা রয়েছে।”
এরপর আরও আক্রমণাত্মক সুরে কল্যাণ বলেন, “বিপ্লব মিত্র সবার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেন। ওই লোকটা চলে যাওয়ায় দক্ষিণ দিনাজপুরের মানুষ বেঁচে গিয়েছেন। চিরকালের গদ্দার উনি। বাড়ি থেকে বেরোলেই সবাই মিলে গদ্দার বলে চেপে ধরবেন। বাকিটা আমি দেখছি।”
হরিরামপুর বিধানসভা কেন্দ্র প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ডিসকোয়ালিফিকেশনের পিটিশন করে দিয়েছি। ডিসকোয়ালিফাই করে হরিরামপুর সিটে আবার উপনির্বাচন করানো হবে। খেলা তোমরা শুরু করেছ, শেষ করব আমরা।”
অন্যদিকে, ফোনে কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আজ দিল্লিতে ইন্ডিয়া অ্যালায়েন্স হচ্ছে, যার প্রধান তৃণমূল কংগ্রেস। আমরা মনে করি বিরোধীদের হারানো সম্ভব এবং আগামী দিনে সেটা ঘটবে।” পুলিশি চাপ প্রসঙ্গে তিনি কর্মীদের ভয় না পাওয়ার বার্তা দিয়ে বলেন, “পুলিশ যে আপনাদের ভয় দেখাচ্ছে, ভয় না পেয়ে ভয়কে জয় করতে হবে। যাঁরা অত্যাচার করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও একদিন মামলা হবে।”
SIR প্রসঙ্গেও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, “SIR-এর নামে মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে, মানুষকে অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের প্রত্যেকের নাম ফের তুলতে হবে।”
কেন্দ্রের নীতি ও শিল্পপতিদের সঙ্গে চুক্তি নিয়েও বিজেপিকে আক্রমণ করেন মমতা। বালুরঘাট বিমানবন্দর প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “বালুরঘাটের বিমানবন্দর আমি করে দিয়ে এসেছিলাম। ওরাই করতে দেয়নি। মালদা, পুরুলিয়াতেও রেডি করে দিয়েছিলাম।”
শেষে কর্মীদের উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বার্তা, “ভানিশ কুমার ভানিশ হলে বিজেপিও ফিনিশ হবে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে বৈঠকে উপস্থিত তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়।

