বালুরঘাট, ৭ অক্টোবর-— অঙ্গনওয়াড়ির রান্নাঘরে কী উঠছে হাঁড়িতে? শিশুদের পাতে পৌঁছচ্ছে কেমন খাবার? পরিষেবাই বা কতটা ঠিকঠাক? খাতায়-কলমে হিসাব নয়, এ বার শিশুদের সঙ্গে একই পাতে বসে খাবারের মান যাচাই করলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। খুদেদের সঙ্গে গল্প, তাদের নানা প্রতিভায় হাততালি—সব মিলিয়ে বুধবার বালুরঘাটে সেবা সংকল্প অভিযানের কর্মসূচিতে দেখা গেল ভিন্ন ছবি।
এক মাসব্যাপী অভিযানের অংশ হিসেবে এ দিন একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে যান বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। শিশুদের সঙ্গে বসেই দুপুরের খাবার খান তিনি। এ দিনের মেনু ছিল ডিম-ভাত ও আলুর তরকারি। খাবারের স্বাদ ও মান সম্পর্কে খুদেদের কাছে জানতে চাওয়ার পাশাপাশি অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের কাছ থেকেও শিশুদের পুষ্টি, দৈনন্দিন পরিষেবা এবং কেন্দ্র পরিচালনার নানা দিকের খোঁজ নেন তিনি।
শুধু খাবারের পাতে নজর নয়, অঙ্গনওয়াড়ির পরিকাঠামো নিয়েও এ দিন বিস্তারিত আলোচনা করেন সুকান্ত। তাঁর দাবি, দক্ষিণ দিনাজপুরে প্রায় ৩৭০০টি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র রয়েছে। আগামী দিনে প্রতিটি কেন্দ্রে গ্যাস এবং বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করা হবে। দুই ক্ষেত্রেই ১০০ শতাংশ কভারেজের লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
তবে সংযোগের পাশাপাশি উঠে এসেছে পরিকাঠামোর অন্য সমস্যাও। কোথাও ক্লাবঘরে চলছে অঙ্গনওয়াড়ি, কোথাও আবার ভবন তৈরির জন্য অর্থ বরাদ্দ থাকলেও জমির অভাবে কাজ এগোচ্ছে না। প্রতি ওয়ার্ডে সরকারি জমির অভাবকেই এর অন্যতম কারণ বলে জানান সুকান্ত।
কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর কথায়, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রগুলি নতুন প্রজন্মের পুষ্টি ও বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যাঁরা সারা বছর এই কেন্দ্রগুলি সামলান, তাঁদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে কেন্দ্রগুলির পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছি। এগুলিকে আরও কী ভাবে শক্তিশালী করা যায়, সেটাই লক্ষ্য।
শিশুদের পুষ্টির পাশাপাশি গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টি সংক্রান্ত তথ্যও অঙ্গনওয়াড়ির মাধ্যমে সরকারের কাছে পৌঁছয়। তাই শুধু খাবারের মেনু নয়, কেন্দ্রের ভবন, রান্নার ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংযোগ থেকে পরিষেবার মান—সবকিছুকেই নজরে রাখার বার্তা দেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী।

