বালুরঘাট, ১৯ অক্টোবর ——— এনসিসির মহিলা এক্স ক্যাডেটের রহস্যমৃত্যু! প্রতিবাদে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ বালুরঘাট কলেজের এনসিসির ছাত্রছাত্রী ও পরিবারের লোকেদের। শনিবার দুপুরে এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরাম থানায়। মৃত ছাত্রী দীপিকা মুরমুর পরিবারের অভিযোগ, তাকে ঠান্ডা মাথায় খুন করে দেহ গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে পতিরামের বটুন গ্রাম পঞ্চায়েতের অন্তর্গত বংশীপুর আদিবাসী পাড়ার বাসিন্দা দীপিকা মুরমু। কলেজ পাশ করার পাশাপাশি এনসিসির এক্স ক্যাডেট হিসাবেও তার যথেষ্ট পরিচিতি ছিল। গত ১৫ অক্টোবর বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে মাদারগঞ্জ এলাকায় রাস্তার ধারে একটি গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় তার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। যেখান থেকে তার এনসিসির যাবতীয় সামগ্রীর উদ্ধারের পাশাপাশি একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার করেছে পুলিশ। যে ঘটনার পরেই দেহটি ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে তদন্তে নামে পতিরাম থানার পুলিশ। তবে এই ঘটনা নিয়ে প্রথম থেকেই তার পরিবারের দাবি, দীপিকার মৃত্যু আত্মহত্যা নয়, এটি একটি ঠাণ্ডা মাথার খুন। তারা আরো অভিযোগ করেন, দীপিকাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে তার দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখনও কোনো সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেনি, যা নিয়েই ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এদিন এই ঘটনার প্রতিবাদেই দীপিকার পরিবারের সদস্যরা ও বালুরঘাট কলেজের এনসিসি ছাত্রছাত্রীরা পতিরাম থানার সামনে বিক্ষোভে শামিল হন। ঘটনা নিয়ে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানান তারা। বিক্ষোভকারীরা হুঁশিয়ারি দেন, যদি পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তবে তারা বৃহত্তর আন্দোলনের পথে নামতে বাধ্য হবেন।
বিক্ষোভকারীদের তরফে সমীরণ সাহা জানান, দীপিকা ছিলেন একজন মেধাবী ও প্রতিভাবান ছাত্রী। তার অকালমৃত্যুতে গভীর রহস্য রয়েছে এবং তারা এ ঘটনার ন্যায়বিচার চান। দীপিকার মতো একজন প্রতিভাধর ছাত্রীর মৃত্যু এভাবে মেনে নেওয়া যায় না বলেও দাবি তাদের।
পুলিশ আশ্বস্ত করেছে যে তারা সব দিক খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটিত হবে বলেও জানিয়েছেন পতিরাম থানার ওসি সৎকার সাংবো।

