বালুরঘাট, ৩১ অক্টোবর —— দক্ষিণ দিনাজপুরের দৌলতপুর — নামটা এতদিন শুধুই এক গ্রাম, এক স্কুল, আর কিছু মাটির ঘরের গল্পে সীমাবদ্ধ ছিল। আজ সেই দৌলতপুরই রাজ্যের মানচিত্রে নতুন করে জায়গা করে নিল এক কিশোরীর হাত ধরে। উচ্চমাধ্যমিক ২০২৬-এর তৃতীয় সেমিস্টারে রাজ্যে চতুর্থ স্থান অর্জন করে তাক লাগাল দৌলতপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রী দীপান্বিতা পাল। গোটা রাজ্যে মেয়েদের মধ্যে সে এক নম্বরে। তার প্রাপ্ত নম্বর—৯৮.৪ শতাংশ!
দীপান্বিতা শিক্ষক পরিবারের মেয়ে। মা তন্দ্রা ঘোষ ওই স্কুলেরই ভৌতবিজ্ঞানের শিক্ষিকা, আর বাবা জগৎপতি পাল বেতনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। অর্থাৎ বলায় যায় তার বাড়ির বাতাসে বাতাসে বইছে বইয়ের গন্ধ, আর সেই শিক্ষার উত্তরাধিকারকেই নিজের মেধায় পরিণত করেছে দীপান্বিতা। পড়াশোনার বাইরে গান, ছবি আঁকা, এমনকি মাটির দুর্গা ও সরস্বতীর মূর্তি গড়ায়ও অসাধারণ পারদর্শী সে। তাঁর গড়া দেবীমূর্তি আজও সাজানো থাকে স্কুলের করিডরে— যেন এক প্রতিভার স্পর্শে প্রাণ পেয়েছে মাটি।
এদিন ফলাফল ঘোষণার পর দীপান্বিতার মুখ উচ্ছ্বাস ও আবেগে ভরা, “ভাবতেও পারিনি রাজ্যের মধ্যে চতুর্থ হবো। অঙ্ক আমার সবচেয়ে প্রিয় বিষয়। এখন জয়েন্টের প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
দীপান্বিতার এই সাফল্যে গর্বে যেন উদ্বেল দৌলতপুর ও গোটা দক্ষিণ দিনাজপুর। দীপান্বিতাকে টেলিফোনে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী ও বালুরঘাটের সাংসদ সুকান্ত মজুমদার। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন— ভবিষ্যতের প্রতিটি পদক্ষেপে পাশে থাকবে প্রশাসনও।
প্রত্যন্ত গ্রামের নরম মাটিতে পা রেখে রাজ্যের শীর্ষে ওঠা এই মেয়েটি যেন প্রমাণ করে দিল— স্বপ্নের ডানা থাকলে দূরত্ব কোনো বাধা নয়। দীপান্বিতার আলোয় আজ গর্বে উজ্জ্বল দক্ষিণ দিনাজপুর, আর রাজ্যজুড়ে উচ্চারিত এক নাম— দীপান্বিতা পাল!

