গঙ্গারামপুর ২৯জুন ।দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় এই প্রথম শিক্ষামূলক উদ্যোগ হিসেবে নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত হল চাইল্ড পার্লামেন্ট। চাইল্ড ইন নিড ইনস্টিটিউট (CINI)-এর উদ্যোগে এবং নারী মুক্তি মহিলা সমিতির সহযোগিতায় গঙ্গারামপুরে অনুষ্ঠিত হয় এই অভিনব কর্মসূচি। জলে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ প্রকল্পের পাশাপাশি শিশুদের মধ্যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
নারী মুক্তি মহিলা সমিতির সভাকক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন গঙ্গারামপুর ব্লকের বিএমওএইচ ডাঃ ওয়াসেফ আলি, সিনিয়র পিএইচএন নাসরিন নাজ ফিরদৌস, দুলালী সাহা, স্কুল হেলথের ডাঃ মহঃ এহ্তাশামুদ্দিন, ডাঃ নাজমা আক্তার, সিনির সহকারী প্রজেক্ট ম্যানেজার সায়নী অধিকারী, নারী মুক্তি মহিলা সমিতির সহ-সভানেত্রী শুভ্রা ঘোষ, সম্পাদক কাঞ্চন বসাক, চিফ কো-অর্ডিনেটর প্রণব কুমার বসাক, সদস্যা রাখি সাহা, ড্রাউনিং প্রিভেনশন প্রজেক্টের জেলা কো-অর্ডিনেটর এবং অন্যান্য মাস্টার ট্রেনাররা।
নির্বাচনে গঙ্গারামপুর ব্লকের প্রায় ১০০ জন কিশোর-কিশোরী ভোটার হিসেবে অংশগ্রহণ করে। ১২ জন প্রার্থীর মধ্যে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট গ্রহণ করা হয়। ভোটগ্রহণ শেষে সকলের উপস্থিতিতে ব্যালট বাক্স খুলে প্রকৃত নির্বাচনের নিয়ম মেনে ভোট গণনা করা হয়। সর্বাধিক ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে মুখ্যমন্ত্রী এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোটপ্রাপ্ত প্রার্থীকে বিরোধী দলনেত্রী নির্বাচিত করা হয়।
পরে নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শিক্ষা, তথ্য ও সম্প্রচার, নারী ও শিশু কল্যাণ, স্বাস্থ্য এবং পরিবেশ ও বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের মন্ত্রীদের দায়িত্ব বণ্টন করেন। যাঁরা মন্ত্রী হননি, তাঁদের শিশু সংসদের বিধায়ক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
আয়োজকদের বক্তব্য, কিশোর-কিশোরীদের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরা, তার সমাধানে নেতৃত্ব গড়ে তোলা এবং ১৮ বছর পূর্ণ হলে গণতান্ত্রিকভাবে ভোটদানের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ করে দিতেই এই উদ্যোগ। ভবিষ্যতে নির্বাচিত শিশু সংসদের সদস্যরা গঙ্গারামপুর ব্লকের বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে সমবয়সী শিশু-কিশোরদের সমস্যা শুনে সচেতনতা ও সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করবেন।
শেষে সকল নির্বাচিত প্রতিনিধি, অংশগ্রহণকারী এবং অতিথিদের উপস্থিতিতে গ্রুপ ফটো তোলার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়।

