বুনিয়াদপুর ২৯ জুন। চিকিৎসা ক্ষেত্রে নতুন নজির গড়ল দক্ষিণ দিনাজপুর। জেলার মধ্যে প্রথমবার ৫.৫ সেন্টিমিটার আকারের গলব্লাডারের পাথর মাইক্রো (ল্যাপারোস্কোপিক) সার্জারির মাধ্যমে সফলভাবে অপসারণ করলেন কলকাতার টাটা মেডিক্যাল সেন্টারের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. কিশোর কুমার রায়। এই সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে বুনিয়াদপুরের হেলথ ওকে নার্সিং হোমে। বর্তমানে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পেয়ে অত্যন্ত খুশি রোগীর পরিবারের সদস্যরা।
জানা গিয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বংশীহারী থানার কুশকারী এলাকার বাসিন্দা বৃদ্ধা সোফিয়া বিবি দীর্ঘদিন ধরে তীব্র পেটের ব্যথায় ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য তিনি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে হেলথ ওকে নার্সিং হোমে আসেন। সেখানে প্রতি সোমবার রোগী দেখতে আসা টাটা মেডিক্যাল সেন্টারের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ডা. কিশোর কুমার রায়ের পরামর্শে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি (ইউএসজি) করা হলে দেখা যায়, তাঁর গলব্লাডারে ৫.৫ সেন্টিমিটার আকারের একটি বিশাল পাথর রয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত গলব্লাডারে ২ সেন্টিমিটারের বেশি আকারের পাথর থাকলে ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। সেই কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরিবারের সদস্যরা দ্রুত অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেন। এরপর মাইক্রো (ল্যাপারোস্কোপিক) সার্জারির মাধ্যমে সফলভাবে পাথরটি অপসারণ করা হয়। অস্ত্রোপচারের মাত্র চার দিনের মধ্যেই রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে যান।
এ বিষয়ে ডা. কিশোর কুমার রায় বলেন,”দক্ষিণ দিনাজপুর-সহ উত্তরবঙ্গে এই ধরনের বড়, ৫.৫ সেন্টিমিটার গলব্লাডারের পাথর মাইক্রো সার্জারির মাধ্যমে সফলভাবে অপসারণ করা অত্যন্ত বিরল ঘটনা। এত বড় পাথর থাকলে ক্যান্সারের আশঙ্কা থাকে। তবে বায়োপসির (BFC/হিস্টোপ্যাথোলজি) রিপোর্টে কোনো ক্যান্সারের লক্ষণ পাওয়া যায়নি। বর্তমানে রোগী সম্পূর্ণ সুস্থ ও স্বাভাবিক আছেন।”
রোগীর মেয়ে কাশিরা খাতুন বলেন,”আমরা কল্পনাও করতে পারিনি মায়ের গলব্লাডারে এত বড় পাথর রয়েছে। হেলথ ওকে নার্সিং হোমে ডা. কিশোর কুমার রায়ের পরামর্শে অপারেশন করানো হয়। সফল অস্ত্রোপচারের পর মা এখন সম্পূর্ণ সুস্থ। এত উন্নত চিকিৎসা আমাদের বুনিয়াদপুরেই পাওয়া যাবে, তা ভাবিনি। আমরা চিকিৎসক ও নার্সিং হোম কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ।”
হেলথ ওকে নার্সিং হোমের কর্ণধার আসাদুর খোন্দকার বলেন,”বুনিয়াদপুরে আধুনিক চিকিৎসা পরিষেবা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের লক্ষ্য। কলকাতার টাটা মেডিক্যাল সেন্টারের অভিজ্ঞ ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রতি সপ্তাহে আমাদের নার্সিং হোমে রোগী দেখেন। উন্নত মানের যন্ত্রপাতি ও দক্ষ চিকিৎসকের সহযোগিতায় ৫.৫ সেন্টিমিটার গলব্লাডারের পাথরের সফল মাইক্রো সার্জারি করা সম্ভব হয়েছে। রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন, এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য।”

