বালুরঘাট, ২ জুলাই —- ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদ পেতে গৃহবধূর সাত ভরি সোনার গহনা হাতিয়ে চম্পট হাবড়ার যুবক। গহনার শোকে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্নঘাতী গৃহবধূ। বুধবার রাতে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের পতিরাম থানার বটুন অঞ্চলে। ঘটনা নিয়ে পুলিশ অভিযোগ জমা নিতে না চাওয়ায় ওই গৃহবধূর এমন আত্মহত্যা বলে দাবি পরিবারের। জানা গেছে মৃত ওই গৃহবধূর নাম মহুয়া রায় (২৮)। বাবার বাড়ি কুমারগঞ্জের সমজিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের কানুরাতে হলেও বটুনের তেলাইন এলাকার বাসিন্দা ষষ্ঠী গোপাল রায়ের ছেলে বিক্রম রায়ের সাথে বেশ কয়েকবছর আগে বিয়ে হয়েছিল তার। বর্তমানে ৬ বছরের একটি মেয়েও রয়েছে তাদের। মৃত মহুয়ার স্বামী বিক্রম রায় সিকিউরিটির কাজে চোপড়াতে থাকেন। স্বামী বাড়িতে না থাকার যে সুযোগেই ফেসবুকের নেশা চেপে ধরে মহুয়াকে। কখনো রিলস, কখনো ছবি পোস্ট এসব নিয়েই মত্ত হয়ে যায় মহুয়া। আর যে ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারের সুত্র ধরেই পরিচয় হয় হাবড়ার যুবক দ্বীপ সরকারের সাথে। প্রথমে পরিচয়, তারপর প্রেমালাপ এবং সবশেষে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন উভয়েই। মহুয়ার পরিবারের দাবি মাত্র ত্রিশ দিনের প্রেমেই সে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাবার সিদ্ধান্ত নেয়। এদিকে বাড়ি থেকে পালিয়ে হাবড়ার ওই যুবক দ্বীপ সরকারের সাথে বিয়ে করার জন্য সাত ভরি সোনার গহনা নিয়েও হাজির হয় মহুয়া। বালুরঘাট স্টেশনে তাদের প্রথম দেখাও হয়। এরপরই মহুয়া ও তার মেয়ের খাবার আনবার নাম করে গহনা ও জামাকাপড় রাখা ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় হাবড়ার ওই যুবক। দীর্ঘ কয়েকঘন্টা বসেও তার খোজ না পাওয়ায় কিছুটা হতাশা নিয়ে ফের বাড়ি চলে আসে ওই গৃহবধূ। পরিবারের লোকজনকে সমস্ত কিছু জানাবার পর ঘটনা নিয়ে স্থানীয় পতিরাম থানায় হাবড়ার ওই অভিযুক্ত যুবকের নামে লিখিত অভিযোগ জানাতে যান গৃহবধূ। কিন্তু পুলিশ অভিযোগ না নেওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন গৃহবধূ মহুয়া। এরপরেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হয় ওই গৃহবধূ।
মৃত গৃহবধূর বাবা শ্যামসুন্দর রায় বলেন, ফেসবুকে হাবড়ার এক যুবকের সাথে প্রেমে পড়ে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করতে চেয়েছিল মেয়ে। বাড়ি থেকে সাত ভরি সোনার গহনাও নিয়ে গিয়েছিল সে। যেগুলি নিয়ে মেয়েকে বোকা বানিয়ে পালিয়ে গিয়েছে ওই প্রতারিত যুবক। ঘটনা নিয়ে থানায় অভিযোগ জানাতে গেলেও পুলিশ অভিযোগ নেয়নি। আর তারপরেই মেয়ে আত্মঘাতী হয়েছে।
মৃত মহুয়ার শ্বশুর ষষ্ঠী গোপাল রায় ও আত্মীয় সঞ্জয় রায় বলেন, ফেসবুক প্রেমে ফাঁসিয়ে ওই যুবক সহ গহনা হাতিয়ে নিয়েছে। যে কারনেই আত্মঘাতী হয়েছে ওই যুবক। তারা চান ওই যুবকের শাস্তি।

