রেশন কার্ড বন্ধ,সরকারি পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হাজারো মানুষ সংশোধনের দাবিতে বুনিয়াদপুর মহকুমা খাদ্য দপ্তরে বিক্ষোভ দেখাল, দীর্ঘ ভোগান্তির অভিযোগে ক্ষোভে ফেটে পড়লেন গ্রাহকেরা,সমাধানে আশ্বাস

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

 বুনিয়াদপুর ১ জুলাই।রেশন কার্ড হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরকারি পরিষেবা ও খাদ্যসামগ্রী থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগে বুধবার দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর মহকুমা মহকুমা খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তরের সামনে বুনিয়াদপুরে বিক্ষোভে সামিল হলেন কয়েকশো রেশন গ্রাহক। দীর্ঘদিন ধরে দপ্তরে ঘুরেও সমস্যার সমাধান না হওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত হস্তক্ষেপ করেন মহকুমা খাদ্য দপ্তরের আধিকারিকরা এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, রেশন কার্ড সংক্রান্ত সংশোধনের জন্য রাত ২টার পর নাম নথিভুক্ত করা হচ্ছে।ফলে রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও অধিকাংশ মানুষ কাজ করাতে পারছেন না। কারও অভিযোগ, ৭ দিন, কারও ১৫ দিন, আবার কেউ এক মাস বা তারও বেশি সময় ধরে দপ্তরে ঘুরছেন। কিন্তু আশ্বাস ছাড়া বাস্তবে কোনও সমাধান মিলছে না।
গঙ্গারামপুর মহকুমার চারটি ব্লক ও দুটি পুরসভা এলাকার লক্ষাধিক রেশন গ্রাহকের উপর এই সমস্যার প্রভাব পড়েছে বলে দাবি। বহু গ্রাহকের অভিযোগ, আধার রেশন সংযুক্তিকরণ, তথ্যের গরমিল কিংবা অজানা কারণে তাঁদের রেশন কার্ড নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছে। ফলে শুধু রেশন নয়, রেশন কার্ড নির্ভর একাধিক সরকারি প্রকল্পের সুবিধাও মিলছে না।সবচেয়ে বেশি অভিযোগ এসেছে গঙ্গারামপুর, বুনিয়াদপুর, বংশীহারী, কুশমণ্ডি ও হরিরামপুর এলাকা থেকে।
ভুক্তভোগী মানষী দাস সূত্রধর, রাকেশ নট্ট, দোলনি বিশ্বাস ও ননীগোপাল মণ্ডলদের অভিযোগ, “রাত থেকে লাইনে দাঁড়িয়েও কাজ হচ্ছে না। দপ্তর শুধু আজ-কাল বলে ঘুরিয়ে দিচ্ছে। মাসের পর মাস হয়রানির শিকার হচ্ছি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্যা না মিটলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।”
অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতা কমলেশ ফৌজদার বলেন, “হঠাৎ করে বহু রেশন কার্ডের পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন। আমরা সমস্যার সমাধানের জন্য গ্রাহকদের মহকুমা খাদ্য দপ্তরে পাঠাচ্ছি। প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
যদিও মহকুমা খাদ্য দপ্তরের আধিকারিক ঋত্বিক মহাপাত্র ক্যামেরার সামনে মুখ খুলতে চাননি। তবে তিনি জানান, গ্রাহকদের অভিযোগ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানের চেষ্টা চলছে।
প্রশাসনের আশ্বাসে আপাতত বিক্ষোভ স্থগিত হলেও প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে হাজারো রেশন গ্রাহকের দুর্ভোগ কবে কাটবে? সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে আন্দোলন আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *