জিআই ট্যাগ পেতে চলেছে গঙ্গারামপুরের নয়া বাজারের বিখ্যাত ক্ষীর দই,মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে খুশির হাওয়া ব্যবসায়ী থেকে ক্রেতাদের মধ্যে

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

বালুরঘাট ৩ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ দিনাজপুর দক্ষিণ দিনাজপুরের গঙ্গারামপুরের নয়াবাজারের ঐতিহ্যবাহী ক্ষীর দই এবার জিআই ট্যাগের স্বীকৃতি পাওয়ার পথে। বুধবার বালুরঘাট সফরে এসে প্রশাসনিক বৈঠকের পর এমনই উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী এই দই জিআই স্বীকৃতি পেলে গঙ্গারামপুরের পরিচিতি শুধু রাজ্য বা দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা পৌঁছে যেতে পারে বিশ্ব দরবারেও। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে খুশি দই ব্যবসায়ী, প্রস্তুতকারক থেকে সাধারণ মানুষও।
দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহর গঙ্গারামপুর।আর গঙ্গারামপুরের পরিচয়ের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে এখানকার বিখ্যাত দই।গঙ্গারামপুরে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার শুরু হওয়ার সময় থেকেই এখানকার দইয়ের আলাদা কদর রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
বিশেষ করে ক্ষীর দই ও খাসা দই—এই দুই ধরনের দইয়ের জন্যই দীর্ঘদিন ধরে সুনাম রয়েছে গঙ্গারামপুরের।জেলার বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি রাজ্যের অন্যান্য জেলা থেকেও মানুষ গঙ্গারামপুরে এলে সঙ্গে করে নিয়ে যান এখানকার দই। এমনকী আত্মীয়ের বাড়ি অন্য জেলায় বেড়াতে গেলেও গঙ্গারামপুরের দই সঙ্গে নিয়ে যাওয়ার চল রয়েছে।
খাঁটি দুধ দিয়ে ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতে তৈরি হয় এই দই। স্বাদ, গন্ধ এবং তৈরির নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের কারণেই বছরের পর বছর ধরে ক্রেতাদের কাছে এর চাহিদা অটুট। সময়ের সঙ্গে সেই চাহিদা আরও বাড়ছে।
বুধবার বালুরঘাট সফরে এসে একাধিক কর্মসূচিতে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর বালুরঘাটের বালুছায়াতে প্রশাসনিক বৈঠক করেন তিনি। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে গঙ্গারামপুরের ঐতিহ্যবাহী দইকে জিআই ট্যাগের স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার খবর ছড়িয়ে পড়তেই খুশির হাওয়া গঙ্গারামপুরে। ব্যবসায়ীদের আশা, জিআই স্বীকৃতি পেলে গঙ্গারামপুরের দইয়ের স্বতন্ত্র পরিচিতি আরও প্রতিষ্ঠিত হবে। বাড়বে বাজার, বাড়বে ব্যবসা, পাশাপাশি উপকৃত হবেন দই প্রস্তুতকারক কারিগর এবং সংশ্লিষ্ট বহু পরিবার।
স্থানীয়দের মতে, গঙ্গারামপুরের ক্ষীর দই শুধুমাত্র একটি খাদ্যসামগ্রী নয়, এটি শহরের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ও পরিচয়ের অংশ। তাই এই ঐতিহ্যকে স্বীকৃতি দিতে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয় বলেই মনে করছেন তাঁরা। গঙ্গারামপুরের দই ব্যবসায়ী বাপি রায় বলেন ,“গঙ্গারামপুরের দইয়ের কদর বহুদিনের। জিআই ট্যাগ পেলে আমাদের ব্যবসা আরও বাড়বে।মুখ্যমন্ত্রী যে উদ্যোগ নিয়েছেন, আমরা তাঁকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”
গঙ্গারামপুরবাসী গঙ্গারামপুরে উৎপল রায় বলেন,” ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু হওয়ার সময় থেকেই দইয়ের একটা আলাদা পরিচিতি রয়েছে। এই দই এখানকার ঐতিহ্য। জিআই স্বীকৃতি পেলে গঙ্গারামপুরের নাম আরও দূরে পৌঁছবে।”
সানদা রায় নামে এক গঙ্গারামপুরবাসী বলেন,“বাইরে কোথাও গেলে গঙ্গারামপুরের দই সঙ্গে নিয়ে যাই। এই দইয়ের স্বাদ অন্যরকম। জিআই ট্যাগের উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ভালো উদ্যোগ।”
মামুন সরকার নামে এক দই ক্রেতা বলেন,“গঙ্গারামপুরে এলে দই না নিয়ে বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে করে না। জিআই ট্যাগ পেলে এই দই আরও পরিচিত হবে। মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই।”
দই প্রস্তুতকারী কারিগরপূর্ণ চন্দ্র বর্মণ,“বহুদিন ধরে আমরা এই দই তৈরি করছি। জিআই ট্যাগ হলে গঙ্গারামপুরের দইয়ের চাহিদা আরও বাড়বে। আমাদের মতো কারিগররাও উপকৃত হব।”
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, মানুষের আবেগ আর স্বাদের নিজস্ব বৈশিষ্ট্য—এই তিনের মেলবন্ধনেই গঙ্গারামপুরের দই আজ স্বতন্ত্র পরিচয় তৈরি করেছে। এবার জিআই স্বীকৃতির উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সেই পরিচিতি আরও সুদূরপ্রসারী হবে—এমনটাই আশা গঙ্গারামপুরবাসীর। মুখ্যমন্ত্রীর এই উদ্যোগ তাই শুধু দই ব্যবসার উন্নয়ন নয়, গঙ্গারামপুরের ঐতিহ্যকে নতুন পরিচিতি দেওয়ারও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *