বালুরঘাট, ১৪ জুন –— দক্ষিণ দিনাজপুরে বালির সঙ্কট ঘিরে ক্রমশ ক্ষোভ বাড়ছে। বালুরঘাট ও পতিরাম জুড়ে বালির হাহাকার, আর সেই সঙ্কটের মাঝেই চালানকে কেন্দ্র করে দেদার কালোবাজারির অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতির প্রতিবাদে আগামী সোমবার থেকে রাস্তায় নেমে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিলেন জেলার ট্রাক্টর মালিকরা। রবিবার এক বৈঠকের পর আন্দোলনের সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশ্যে আনেন তাঁরা।
ট্রাক্টর মালিকদের অভিযোগ, রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই বালির জোগান ব্যবস্থায় ব্যাপক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বিভিন্ন জেলায় প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও দক্ষিণ দিনাজপুরে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলেই দাবি তাঁদের। ফলে জেলার একাধিক এলাকায় নির্মাণকাজ কার্যত বালির অভাবে ধাক্কা খেতে শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, বর্তমানে গঙ্গারামপুরের তিনটি এবং কুমারগঞ্জের চারটি বালির চর থেকেই সরকারি অনুমোদনের ভিত্তিতে বালি তোলা হচ্ছে। নির্দিষ্ট চালানের মাধ্যমেই সেই বালি বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু বালুরঘাট ও পতিরামের বিস্তীর্ণ এলাকায় একাধিক চর থাকা সত্ত্বেও সেখান থেকে বালি উত্তোলনের কোনও সরকারি অনুমতি এখনও মেলেনি। আর সেই কারণেই স্থানীয় বাজারে বালির সঙ্কট চরমে উঠেছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, গঙ্গারামপুর বা কুমারগঞ্জ থেকে বালি আনতে পরিবহণ খরচ অনেকটাই বেড়ে যাচ্ছে। তার প্রভাব পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের উপরেও। বর্তমানে এক ট্রাক্টর বালি কিনতে চার হাজার টাকারও বেশি খরচ করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগের আরও গুরুতর দিক হল চালান নিয়ে কালোবাজারি। ট্রাক্টর মালিকদের দাবি, সরকারি হিসেবে যে চালানের মূল্য ৩৬৫ টাকা, তা খোলা বাজারে এক হাজার থেকে বারোশো টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এই অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের ফলে বৈধ ব্যবসা করাও কঠিন হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
ট্রাক্টর মালিক সংগঠনের সদস্য সঞ্জয় মহন্ত, রিঙ্কু সাহা, সেলিম জাভেদ মণ্ডল ও পঙ্কজ মণ্ডলদের বক্তব্য, অবিলম্বে চালানের কালোবাজারি বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি বালুরঘাট ও পতিরামের একাধিক বালির চর খুলে দিয়ে সরকারি অনুমোদনের মাধ্যমে বালি উত্তোলনের ব্যবস্থা করতে হবে। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটতে বাধ্য হবেন তাঁরা।
বালির সঙ্কট, বাড়তি দাম এবং চালানকে ঘিরে ওঠা কালোবাজারির অভিযোগে জেলার নির্মাণ শিল্প ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে। এখন প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে জেলার মানুষ।

