রাতারাতি রং বদল, বিজেপির নাম ভাঙিয়ে বালুরঘাটে তৃণমূল নেতাদের দাপট! সরকারি অফিসে ব্যানার-কাণ্ডে বিস্ফোরক অভিযোগ, জেলাশাসকের দ্বারস্থ মিহিরবরণ হালদার

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

বালুরঘাট,১ জুন —— সরকারি দপ্তরের দেওয়ালে ঝুলছে কর্মচারী সংগঠনের ব্যানার। কিন্তু সেই ব্যানার নিয়েই এবার শুরু হল প্রবল বিতর্ক। সরকারি অফিসকে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মঞ্চে পরিণত করার অভিযোগ তুলে দক্ষিণ দিনাজপুরে কার্যত বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রাজ্য সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সংঘের রাজ্য সংগঠন সম্পাদক মিহিরবরণ হালদার। তাঁর দাবি, তৃণমূল ঘনিষ্ঠ সরকারি কর্মচারী সংগঠনের একাংশ রাজনৈতিক পরিস্থিতি বুঝে রাতারাতি নিজেদের পরিচয় বদলে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) ঘনিষ্ঠ সংগঠনের নাম ব্যবহার করে সরকারি দপ্তরে প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

সোমবার বালুরঘাটে জেলাশাসক বালা সুব্রামনিয়ামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই অভিযোগের কথা তুলে ধরেন মিহিরবরণ হালদার ও তাঁর সংগঠনের প্রতিনিধিরা। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “সরকারি অফিসে কোনও রাজনৈতিক পরিচয়ের জায়গা নেই। অথচ কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে সরকারি কর্মচারীদের বিভ্রান্ত করছেন এবং প্রশাসনিক পরিবেশকে কলুষিত করছেন।”

মিহিরবরণবাবুর অভিযোগ, বিজেপির নাম এবং কলকাতার ৬ নম্বর মুরলীধর লেনের রাজ্য কার্যালয়ের ঠিকানা ব্যবহার করে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে সদস্য সংগ্রহ, প্রচার ও সংগঠন বিস্তারের কাজ চলছে। সরকারি কর্মচারীদের আচরণবিধি অনুযায়ী যা সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত। শুধু তাই নয়, এর মাধ্যমে সরকারি দপ্তরের নিরপেক্ষ চরিত্রও প্রশ্নের মুখে পড়ছে বলে দাবি তাঁর।

রাজ্য সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সংঘের তরফে দাবি করা হয়েছে, বিজেপি নেতৃত্বও দলীয় কার্যালয়ের ঠিকানা এভাবে ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছে। তা সত্ত্বেও সরকারি অফিসে একের পর এক ব্যানার টাঙিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ। বিষয়টি প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তরের নজরে আনা হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।

এদিন মিহিরবরণ হালদার স্পষ্ট ভাষায় জানান, জেলার সমস্ত সরকারি দপ্তর থেকে এ ধরনের ব্যানার, ফ্লেক্স ও হোর্ডিং অবিলম্বে সরিয়ে ফেলা উচিত। তাঁর কথায়, “সরকারি কর্মচারীদের একমাত্র পরিচয় হওয়া উচিত মানুষের সেবক হিসেবে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় নয়, কর্মসংস্কৃতি ও স্বচ্ছ প্রশাসনের মাধ্যমেই মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।”

এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ দিনাজপুরের প্রশাসনিক মহলের পাশাপাশি রাজনৈতিক অন্দরেও শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সরকারি অফিসের দেওয়ালে ঝোলানো কয়েকটি ব্যানারই এখন নতুন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *