বালুরঘাট, ২৭ আগস্ট————-দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় আজও বহন করে চলেছে আদি পূর্ববঙ্গের ঐতিহ্য।প্রায় ২৫১ বছরের পুরোনো এই দুর্গাপুজো একেবারে আলাদা ধাঁচে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। বাংলাদেশের(তৎকালীন পূর্ববঙ্গ)জোতদার পরিবারের সূচনা করা এই পুজো আজও একই নিয়মে,একই নিষ্ঠায় পালিত হচ্ছে।জোতদার বাড়ির পুজোর সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে।প্রায় ৫১বছর আগে জোতদার পরিবারের পূর্বপুরুষেরা বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসেন। তখনও পূজোর ঐতিহ্যকে তারা ভোলেননি। তাঁদের সঙ্গে এসেছিল এক অনন্য স্মারক—বাংলাদেশের পূজামণ্ডপ থেকে আনা পবিত্র মাটি এবং একটি শিবের ত্রিশূল।আজও সেই ত্রিশূলকে কেন্দ্র করে পূজা শুরু হয়। স্থানীয় মানুষ বিশ্বাস করেন, এই ত্রিশূল এবং পূর্ববঙ্গের সেই মাটির টানেই গঙ্গারামপুরে জোতদার বাড়ির পূজা আজও সমান ভক্তি ও ভক্তসমাগমে অনুষ্ঠিত হয়।
এপুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে দুর্গা প্রতিমার সঙ্গে কোনও মহিষ থাকে না। বৈষ্ণব মতে এক চালার প্রতিমা গড়ে পূজো হয়। আবার অন্য একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, দশমীর বিসর্জনের পরের দিন একাদশীতে কালীপূজা হয়।এই রীতি আজও অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন জোতদার পরিবারের সদস্যরা।বাংলাদেশ থেকে ভারতে চলে আসার পর থেকে এপুজোর প্রতিমা গড়ে আসছেন গঙ্গারামপুর এলাকার মৃৎশিল্পী রামপাল ও তার উত্তরসূরিরা।তাঁদের হাতের ছোঁয়ায় প্রতিমায় ধরা পড়ে ভক্তির আবহ।বহু বছর ধরে এই শিল্পী পরিবারই ঐতিহ্যকে ধরে রেখেছে।
জোতদার বাড়ির দুর্গাপুজো শুধু ভক্তির আসর নয়, সামাজিক দায়িত্ববোধেরও প্রতিচ্ছবি। পূজোর দিনগুলিতে ভক্তদের প্রসাদ বিতরণের পাশাপাশি দুস্থদের মধ্যে দান-খয়রাত করা হয়। জোয়ারদারের বংশধর বিদ্যুৎ জোয়াতদার ও তাঁর স্ত্রী জানান,“বাংলাদেশে যেমন পূজো হত,আজও সেই নিয়মেই আমরা পূজো করি।পূজো মানে শুধু দেবী দর্শন নয়,মানুষের সেবাও।”
প্রতিবছরই স্থানীয় বাসিন্দাদের অংশগ্রহণে পূজা প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এলাকার এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান,“আমরা ভক্তি ও নিষ্ঠা নিয়েই এই পূজোয় যোগ দিই। এখানে শুধু দেবী দর্শন নয়, আছে আদি বাঙালি সংস্কৃতির ছোঁয়াও।”
সব মিলিয়ে জোতদার বাড়ির দুর্গাপুজো গঙ্গারামপুরের মানুষের কাছে শুধুই একটি পারিবারিক পূজা নয়, এটি হয়ে উঠেছে পূর্ববঙ্গ থেকে চলে আসা মানুষের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, ভক্তি এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার প্রতীক।এবছরও ২৫১ বছরের ইতিহাস ও উত্তরাধিকারকে ধারণ করে ভক্তি-নিষ্ঠার সঙ্গে পালিত হবে জোতদার বাড়ির দুর্গাপুজো।

