বালুরঘাট, ২৫ ফেব্রুয়ারী —–অবৈধ ‘চেন’ ব্যবস্থার নামে প্রকাশ্যে তোলাবাজির অভিযোগে সরগরম বালুরঘাট পাবলিক বাসস্ট্যান্ড। টোটো চালকদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বাসস্ট্যান্ডে প্রবেশের নাম করে তাঁদের কাছ থেকে নিয়মিত টাকা আদায় করা হচ্ছে—তাও আবার কোনও সরকারি রসিদ ছাড়াই। ঘটনায় ক্ষোভ জমেছে চালক মহলে, উঠছে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন।
অভিযোগ, বাসস্ট্যান্ডের ভেতরে টোটো ঢোকাতে হলে প্রতিদিন ২০ টাকা এবং মাসিক ৪০০ টাকা করে দিতে বাধ্য করা হচ্ছে চালকদের। টাকা না দিলে স্ট্যান্ডে প্রবেশই বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও দাবি তাঁদের একাংশের। ফলে কার্যত জীবিকা নির্বাহ করতেই ‘চুক্তিভিত্তিক মাসোহারা’ দিতে বাধ্য হচ্ছেন বহু টোটোচালক।
টোটো চালক অনিল সিংয়ের কথায়, “স্ট্যান্ডে সীমিত সংখ্যক টোটো ঢুকতে দেওয়া হয়। চেনের নামে প্রতিদিন টাকা দিতে হয়। মাসিক ব্যবস্থাও রয়েছে। না দিলে কাজ করা যায় না।
অপর এক টোটো চালক সঞ্জিত দাস বলেন, বাসস্ট্যান্ডের ভেতরে গেলেই চেনের জন্য জোর করে টাকা আদায় চলে। সেজন্য তারা ভেতরে ঢুকবার সাহস দেখান না। যারা টাকা দেয় শুধু তাদেরই ঢুকতে দেয়। বাসস্ট্যান্ডে কেন টোটোর চেন থাকবে সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। একইসাথে তিনি দাবি জানান, ভেতরে প্রবেশের অনুমতি থাকলে সকল টোটোকেই ঢুকতে দিতে হবে। তাছাড়া কাউকেই ঢুকতে দেওয়া উচিত নয়।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, পুরসভার বাসস্ট্যান্ডের ভিতরে কীভাবে বেসরকারি ‘চেন’ ব্যবস্থা চালু থাকে? দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এই অভিযোগ উঠলেও পুলিশ প্রশাসনের নীরবতা নিয়েও শুরু হয়েছে সমালোচনা।
এদিকে বিষয়টি রাজনৈতিক রংও নিয়েছে। বিজেপি নেতা সমীর প্রসাদ দত্ত শাসকদলকে নিশানা করে বলেন, “বেকার যুবকেরা কষ্ট করে টোটো চালাচ্ছে, সেখানেও তোলাবাজি চলছে। এটাই বর্তমান শাসনের বাস্তব ছবি।
যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাসস্ট্যান্ডে চেনের দায়িত্বে থাকা ক্ষুদিরাম মহন্ত। তাঁর দাবি, টোটো দেখভালের জন্য একজন কর্মী রাখা হয়েছে। তার বেতনের জন্য সামান্য টাকা তোলা হয়, অন্য কিছু নয়।
অন্যদিকে তৃণমূল শ্রমিক সংগঠনের বালুরঘাট শহর সভাপতি মিঠুন নিয়োগী জানান, বাসস্ট্যান্ডে কোনও সরকারি চেন ব্যবস্থা নেই। অভিযোগের কথা তাঁর জানা ছিল না, তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিযোগ-প্রতিবাদের মাঝেই প্রশ্ন একটাই—প্রকাশ্যে অভিযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছেন চালকেরা—তবু প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। এখন দেখার, অভিযোগের পর আদৌ নড়ে বসে কি না পুলিশ প্রশাসন।

