বালুরঘাট, ২৭ ফেব্রুয়ারী –— যে প্রতিষ্ঠানে ভবিষ্যতের আইনজীবীদের আইন শেখানো হয়, সেই আইন কলেজেই এবার আইন লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ। জাল সার্টিফিকেট দাখিল করে লাইব্রেরিয়ান পদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তুমুল বিতর্কে বালুরঘাট আইন কলেজ। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ও তৃণমূলের প্রাক্তন নেত্রী শাশ্বতী দাস।
কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দু’বছর আগে লাইব্রেরিয়ান পদে যোগ দেন তিনি। মাসিক প্রায় ৩০ হাজার টাকা বেতনও নিয়মিত তুলেছেন। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রথম থেকেই সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী। পরে তথ্য জানার অধিকার আইনে নথি চেয়ে আবেদন করা হলে সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
অভিযোগ, মেঘালয়ের উইলিয়াম কেরি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি সায়েন্সের যে সার্টিফিকেট জমা দিয়ে চাকরি পান শাশ্বতী দাস, সেটি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেকর্ডেই নেই। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওই নম্বর বা নামের কোনও সার্টিফিকেট ইস্যু করা হয়নি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে যাচাই ছাড়াই এমন গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ হল?
গঙ্গারামপুর মহকুমা আদালতের আইনজীবী মামুন আল রসিদের দাবি, অভিযুক্ত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেননি। জাল নথির ভিত্তিতে চাকরি নেওয়া হয়ে থাকলে তা ফৌজদারি অপরাধ বলেই মত তাঁর। দ্রুত চাকরি বাতিল ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও তুলেছেন তিনি।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ড. সন্তোষ কুমার তিওয়ারি জানান, বিষয়টি পরিচালন সমিতির সভাপতির নজরে আনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত সেখান থেকেই নেওয়া হবে।
জেলা তৃণমূল সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল বলেন, অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।
তবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন শাশ্বতী দাস। তার দাবি এধরণের অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন।
আইনের পাঠশালায় নিয়োগ বিতর্ক ঘিরে এখন তীব্র চাঞ্চল্য শহরজুড়ে। প্রশ্ন একটাই—নিয়োগে গাফিলতি, না কি প্রভাবের রাজনীতি? তদন্তের ফলাফলের অপেক্ষায় বালুরঘাট।

