বালুরঘাট, ১৫ জুন —— রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তৃণমূল নেতাদের ঘিরে বিক্ষোভ, ‘চোর-চোর’ স্লোগান ডিম-টমেটো ছোড়ার ঘটনার মধ্যেই গঙ্গারামপুরে দেখা গেল এক সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক ছবি। উত্তেজিত জনতার রোষের মুখে পড়া এক তৃণমূল নেতাকে ঘিরে যখন পরিস্থিতি ক্রমশ অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠছিল, তখনই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ভূমিকায় নয়, মানবিকতার পরিচয় দিয়ে তাঁকে নিরাপদে সরিয়ে দিল বিজেপি। সোমবারের এই ঘটনাকে ঘিরে জেলা রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সোমবার জনকল্যাণ শিবির উপলক্ষে শহরের রবীন্দ্রভবন চত্বরে ছিল উপচে পড়া ভিড়। সেই শিবির পরিদর্শনে যান গঙ্গারামপুর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান তথা জেলা তৃণমূলের অন্যতম নেতা জয়ন্ত কুমার দাস। অভিযোগ, শিবির থেকে বের হতেই ক্ষুব্ধ মানুষের একাংশ তাঁকে ঘিরে ধরে ‘চোর-চোর’ স্লোগান দিতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। বিক্ষোভকারীদের একাংশ তাঁর উদ্দেশে কাদা ছুড়তেও শুরু করে বলে অভিযোগ। আচমকা তৈরি হওয়া এই পরিস্থিতিতে কার্যত বিপাকে পড়েন ষাটোর্ধ্ব ওই তৃণমূল নেতা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরিস্থিতি যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান বিজেপির গঙ্গারামপুর টাউন মণ্ডল সভাপতি বৃন্দাবন ঘোষ। তাঁর নেতৃত্বে বিজেপি কর্মীরা দ্রুত জয়ন্তবাবুকে ঘিরে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করেন। উত্তেজিত জনতার মাঝখান থেকে তাঁকে বের করে এনে নিরাপদে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁর বাড়ি ফেরার ব্যবস্থাও করেন বিজেপি নেতারা।
বৃন্দাবন ঘোষের দাবি, পুরসভার কাউন্সিলররা ছাপ্পা ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন বলে মানুষের ক্ষোভ দীর্ঘদিন জমে ছিল। সরকার পরিবর্তনের পর মানুষ প্রতিবাদের সাহস পেয়েছেন বলেই এমন ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, কোনওভাবেই অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হোক, তা তিনি চাননি। তাই নিজে উপস্থিত থেকে জয়ন্তবাবুকে নিরাপদে সরিয়ে দেন।
অন্যদিকে জয়ন্ত কুমার দাস বলেন, জনকল্যাণ শিবিরে মানুষের সমস্যা-অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সময় তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ শুরু হয় এবং কাদা ছোড়া হয়। তবে বিজেপির টাউন মণ্ডল সভাপতি বৃন্দাবন ঘোষ তাঁকে সেখান থেকে বেরিয়ে যেতে সহযোগিতা করেছেন বলেও স্বীকার করেন তিনি।
উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহে গঙ্গারামপুরের এই ঘটনা যেন মনে করিয়ে দিল—মতাদর্শের লড়াই যতই তীব্র হোক, সৌজন্য ও মানবিকতার রাজনীতি এখনও পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি।

