দেশদ্রোহী বই বিতর্কে উত্তপ্ত বালুরঘাট কলেজ, হেল্প ডেস্ক ঘিরে মুখোমুখি এসএফআই-এবিভিপি

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

 

বালুরঘাট, ১ জুলাই —– ভর্তি মরসুমের শুরুতেই বালুরঘাট কলেজে হেল্প ডেস্ককে কেন্দ্র করে তৈরি হল তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। বুধবার দুপুরে ছাত্র সহায়তার নামে খোলা এসএফআইয়ের হেল্প ডেস্ক ঘিরে আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা কলেজ চত্বর। অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ, স্লোগান, বচসা— সব মিলিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই কার্যত থমথমে পরিবেশের সৃষ্টি হয় ক্যাম্পাসে। একদিকে এসএফআইয়ের বিরুদ্ধে দেশদ্রোহী কার্যকলাপ এবং ‘দেশবিরোধী মতাদর্শের প্রচারের’ অভিযোগ তোলে এবিভিপি। অন্যদিকে, কলেজে বহিরাগতদের ঢুকিয়ে হেল্প ডেস্ক ভেঙে দেওয়া, টেবিল-বেঞ্চ সরিয়ে দাদাগিরি চালানো এবং কর্মীদের হেনস্থার অভিযোগ তোলে এসএফআই। ঘটনাকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায় কলেজের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যেও।
এবিভিপির অভিযোগ, ছাত্রছাত্রীদের সাহায্যের আড়ালে এসএফআই এমন বই বিক্রি ও মতাদর্শের প্রচার চালাচ্ছিল, যা দেশের ঐক্য, অখণ্ডতা এবং জাতীয় চেতনার পরিপন্থী। তাদের দাবি, বিষয়টি নজরে আসতেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরাই প্রথম প্রতিবাদে সরব হন। এরপর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এবিভিপির বক্তব্য, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কখনও রাজনৈতিক মতাদর্শ বা বিদেশি আদর্শের প্রচারের ক্ষেত্র হতে পারে না। কলেজ ক্যাম্পাসে চীনের দালালি কিংবা মার্কসের দালালি চলবে না। ভারতীয় সংস্কৃতি, সভ্যতা এবং মুনি-ঋষিদের ভাবধারাকেই মর্যাদা দেওয়া উচিত।
যদিও এই সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছে এসএফআই। সংগঠনের বক্তব্য, প্রতি বছরের মতো এ বছরও নবাগত ছাত্রছাত্রীদের ভর্তি সংক্রান্ত সহযোগিতা করতে হেল্প ডেস্ক খোলা হয়েছিল। সেই সময় আচমকাই কয়েক জন এসে টেবিল-বেঞ্চ তুলে নিয়ে যায়, কর্মীদের উঠে যেতে বলে এবং ভয়ভীতি দেখানোর চেষ্টা করে। অভিযুক্তদের অধিকাংশই বহিরাগত বলে অভিযোগ এসএফআইয়ের।

এসএফআইয়ের বালুরঘাট কলেজ ইউনিটের সভাপতি সমীর বাড়ুই বলেন, দেশদ্রোহী কার্যকলাপের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা শুধু ছাত্রছাত্রীদের সাহায্য করছিলাম। বহিরাগতরা এসে জোর করে আমাদের হেল্প ডেস্ক তুলে দেয়। পরে আমরা আবার বসার চেষ্টা করি।

অন্যদিকে, এবিভিপির দক্ষিণ দিনাজপুর পূর্ব জেলার সংযোজক বাপ্পা ভট্টাচার্যের বক্তব্য, ছাত্রছাত্রীদের সহায়তার নামে দেশবিরোধী কার্যকলাপ চলছিল। সেই কারণেই সাধারণ ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবাদ করেছে। এবিভিপি কোনও সংঘর্ষে জড়ায়নি।

ঘটনার জেরে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনার পারদ চড়লেও পরে বালুরঘাট থানার পুলিশের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। তবে ভর্তি মরসুমের শুরুতেই বালুরঘাট কলেজে হেল্প ডেস্ককে কেন্দ্র করে যে সংঘাতের ছবি সামনে এল, তা ফের একবার ক্যাম্পাস রাজনীতি এবং ছাত্র সংগঠনগুলির ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *