শেষ মুহুর্তে দলকে বিপাকে ফেলে ভোটে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ালেন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলাপরিষদের সহকারী সভাধিপতি। বেইমানি করেছেন জেলা সভাপতি, বলল ললিতা টিজ্ঞা

উত্তরবঙ্গ কলকাতা খেলা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

 

, বালুরঘাট, ১৫ জুন —–– কথা দিয়েও কথা রাখেনি জেলা সভাপতি! অভিমানে ভোটে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাড়ালেন দুবারের জয়ী জেলাপরিষদ সদস্য। তৃণমূলের দখলে রাখা দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদে টানা দশ বছরে পাচ বছর সভাধিপতি ও বাকি পাচ বছর সহকারী সভাধিপতির পদ সামলেছেন ললিতা টিজ্ঞা। বৃহস্পতিবার নমিনেশনের শেষ দিনে তার হঠাৎ এমন সিদ্ধান্তে যথেষ্টই আলোড়ন পড়েছে গোটা দক্ষিন দিনাজপুরে। যদিও এই পুরো ঘটনার জন্য জেলা তৃণমূল সভাপতি মৃণাল সরকারকেই দায়ী করেছেন ললিতা টিজ্ঞা। বুধবার রাজ্য থেকে ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় জেলা পরিষদের তৃণমূল প্রার্থী হিসাবে ওই হেভিওয়েট মহিলা নেত্রীর নাম উঠলেও শেষ বেলায় তার এমন চরম সিদ্ধান্তে কার্যত বিপাকে পড়ে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও সেই বিষয়টি স্বীকার করতে চাননি তৃণমূল নেতৃত্বরা।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি ললিতা টিজ্ঞা ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে গঙ্গারামপুর আসন থেকে দাঁড়িয়েই বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। যিনি ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত জেলা পরিষদের সভাধিপতি হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে সংরক্ষণের বেড়াজালে ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সহকারী সভাধিপতির চেয়ার সামলান তিনি। যেবারেও তিনি গঙ্গারামপুরের ওই আসন থেকেই জয়লাভ করেছিলেন। কিন্তু এবারে সংরক্ষণের বেড়াজালে যে আসন থেকে ছিটকে যান তিনি। পরিবর্তে তপনের একটি আসন থেকে ভোটে দাড়াবার দাবি দলকে জানান ললিতা টিজ্ঞা। তার অভিযোগ বহুদিন আগে থেকে তার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন জেলা তৃণমূল নেতৃত্বরা, বিশেষ করে জেলা তৃণমূল সভাপতি মৃণাল সরকার। বুধবার রাজ্য থেকে জেলা পরিষদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই কার্যত চোখ কপালে ওঠে তৃণমূলের ওই হেভিওয়েট নেত্রীর। তপনের পরিবর্তে তার জন্য বরাদ্দ হয় বালুরঘাটের একটি জেলাপরিষদের আসন। আর এরপরেই ভোটে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাড়ান ওই তৃণমূল নেত্রী ললিতা টিজ্ঞা। বৃহস্পতিবার মনোনয়নের শেষ দিনে আচমকা ওই হেভিওয়েট নেত্রীর এমন সিদ্ধান্তে কার্যত বিপাকে পড়েন জেলা তৃণমূল নেতৃত্বরা। শেষ মুহূর্তে মহিলা এসটি সংরক্ষিত বালুরঘাটের ওই আসন থেকে কাকে দাঁড় করানো হবে সে নিয়েও খোঁজ শুরু হয় দলের অন্দরে। যদিও পরিশেষে মহিলা এসটি সংরক্ষিত জেলাপরিষদের ওই আসনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান সন্তোষ হাঁসদার স্ত্রী কল্পনা মুর্মুকে তড়িঘড়ি টিকিট দিয়ে হাফ ছেড়ে বাচে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বরা। দলের নির্দেশে এদিন কল্পনা দেবী বালুরঘাট মহকুমা শাসকের দপ্তরে এসে নমিনেশন জমা করিয়েছেন।

যদিও ললিতা টিজ্ঞার দাবি, আমার সাথে বেইমানি করা হয়েছে। আমাকে যে আসন দেওয়া হবে বলা হয়েছিল তা দেওয়া হয়নি।তাই ভোটে দাড়াবার সিদ্ধান্ত থেকে সরে দাঁড়ায়। তবে ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করলেও আমি দলেই রয়েছি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান নিখিল সিংহ রায় বলেন, বিষয়টি সম্পূর্ণ দলীয় ব্যাপার।কি কারনে তিনি নমিনেশন দিচ্ছেন না সেটা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। তবে কোনো আসনই ফাঁকা থাকবে না, সব আসনেই প্রার্থী দেওয়া হচ্ছে।

টানা দুবার জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতির পদ সামলানোর পরেও কেন দলের সিদ্ধান্তকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বালুরঘাটের ওই আসন থেকে সরে দাঁড়ালেন ললিতা টিজ্ঞা ? শুধু কি জেলা সভাপতির কথা দিয়ে কথা না রাখাই এর কারণ ? না কি হেরে যাওয়ার ভয় থেকেই পিছু হটলেন ? শেষ মুহুর্তে এসে দলকে বিপাকে ফেলবার পরেও নেতৃত্বরাই বা কেন নিশ্চুপ থাকলো? এমনই একগুচ্ছ প্রশ্ন উস্কে উঠেছে এদিনের এই ঘটনার পর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *