ছোট্ট একটি টিনের ছাউনী দেওয়া ঝুপড়ি ঘর আর সেই ঘরে বসেই সন্তানদের জন্য রান্না করছেন ঝর্না দেবী। কী রান্না করছেন? বলতেই পাশ থেকে উত্তর এলো সয়াবিনের তরকারি, আর ভাত। ছেলে মেয়ে ও স্বামীর জন্য নিজের হাতে রান্না করছেন সমস্ত খাবার। রান্না করার পাশাপাশি গল্প করছেন কলকাতা শহরে কিভাবে দিন কাটছিল তার। কথা হচ্ছিল বছর চল্লিশের ঝর্না পাল যাদবের সাথে। দীর্ঘ সাত বছর পর স্বামী সন্তান দের ফিরে পেয়ে আবার আগের মতো স্বামী ও সন্তানের দের নিজ হাতে রান্না করে খাওয়াচ্ছেন ঝর্না দেবী।
দীর্ঘ সাত বছর কলকাতার ফুটপাতে দিন কেটেছে ঝর্না পাল যাদবের। বছর সাতেক আগে স্বামীর সাথে মনোমালিন্যের জেরে স্বামী সন্তানদের রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যায় রায়গঞ্জের খরমুজা ঘাট এলাকার নিবাসী ঝর্না পাল যাদব। পরিবারের পক্ষ থেকে সেই সময় থানার অভিযোগ করার পাশাপাশি বহু খোঁজাখোজি করা হয় বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে সেই সময় ঝর্ণা দেবী কে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। বহু চেষ্টার পরও ঝর্ণা দেবীকে না পাওয়ায় সব আশাই ছেড়ে দিয়েছিল পরিবার। অবশেষে বছর সাতেক বাদে কলকাতার পুলিশকর্মীর একটি ফেসবুক পোস্ট বদলে দিল ঝর্ণা দেবীর জীবন। কলকাতার ফুটপাত ছেড়ে ঝর্ণা দেবী ফিরে পেলেন স্বামী ও তাঁর চার সন্তানদের।
সাত বছর পর মাকে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা ঝর্ণা দেবীর বড়ো ছেলে নেহাল যাদব।
জানা যায় নেহাল যাদব এর বয়স যখন ১০ বছর ঠিক তখন হঠাৎই তার মা বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিল। কোথায় গিয়েছিল সেটা তখন ও তারা জানতে পারেনি। জানা যায় সপ্তাহ খানেক আগে কলকাতার ডানলপ ব্রিজের কাছে ঝর্না দেবী কে একটি ফুটপাতে প্লাস্টিকের বোতল কুড়াতে দেখেন পুলিশ কর্মী বাপন দাস। ফুটপাত বাসি সেই মহিলাকে বাপন বাবু খাবারের প্যাকেট দিতে গেলে তা প্রত্যাখ্যান করে ঝর্না পাল বলেন পলিটিক্যাল প্রোগ্রামের খাবার নেব না ইম্পসিবল , অসম্ভব!” ফুটপাত বাসি সেই মহিলার এতো সুন্দর কথায় আকৃষ্ট হয়ে কলকাতার স্পেশাল ব্রাঞ্চের পুলিশ কর্মী বাপন দাস সেই সময় ঝর্না দেবীর একটি ভিডিও তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেন। ব্যাস নিমিষেই সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে যায় ও সেই ভিডিও অবশেষে এসে পৌঁছায় ঝর্ণা দেবীর পরিবারের কাছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় দৌলতে ও পুলিশ কর্মীর বাপন দাসের সহযোগিতায় বছর সাতেক বাদে পাওয়া একটি ভিডিও মারফত ছেলে নেহাল ও তাঁর পরিবার ফিরে পেল ঝর্না দেবীকে কে। পুলিশ কর্মী বাপন দাসের উদ্যোগে মা ছেলের আবারও মিলন ঘটলো।

