বিজেপির কম্বল বিতরণে পদপিষ্ট হয়ে মৃত ৩

উত্তরবঙ্গ কলকাতা খেলা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

নাবালিকা সহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনায় পাঁচজন গুরুতর জখম। পুলিস জানিয়েছে, মৃতদের নাম চাঁদমণি দেবী (৫০), ঝালি বাউরি (৫৫) ও প্রীতি সিং (১৩)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারি তাঁর স্ত্রীর নির্বাচিত ওয়ার্ড রামকৃষ্ণ ডাঙালে শিবচর্চা নামে এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। সেখানেই হাজির ছিলেন বিরোধী দলনেতাও।
অভিযোগ, শিল্পাঞ্চলে শক্তি প্রদর্শন করতে দলবদলু জিতেন্দ্রবাবু কম্বল দেওয়ার টোপ দিয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে লোক জমায়েত করেন। বিভিন্ন এলাকায় টোকেনও বিতরণ করা হয়। কম্বল পাওয়ার জন্য বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ আসানসোল পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডে রামকৃষ্ণ ডাঙাল সরকারি স্কুলের বিপরীত মাঠে জমায়েত হন। বিজেপি নেতারা ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে মাথায় তিলক কেটে এলাকা ছাড়তেই কম্বল বিতরণ নিয়ে শুরু হয় হুড়োহুড়ি। মানুষের চাপে ভেঙে যায় ব্যারিকেড। একে অন্যের ঘাড়ে গিয়ে পড়ে মানুষ। সেখানে বহু মানুষ পদপিষ্ট হয়ে যান। গোটা এলাকায় চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। তাতেই ঘটে যায় বড় অঘটন। জখমদের আসানসোল জেলা হাসপাতাল ও একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। জেলা  হাসপাতালের চিকিৎসক দু’জনকে মৃত ঘোষণা করেন। জখম পাঁচজনকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে আসানসোল ডিএম অফিসের অদূরে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় নাবালিকা প্রীতিকে। সেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। যদিও এত বড় মর্মান্তিক ঘটনার পরেও আসানসোল জেলা হাসপাতালে দেখা যায়নি বিজেপির কোনও বড় মাপের নেতাকে। পুলিসের শীর্ষ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে যান। তৃণমূল নেতারা জখমদের খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন।
জখম প্রমিলা বাউরি বলেন, কম্বল দেবে বলে ঘোষণা করেছিল। তারজন্যই কম্বল নিতে ওখানে গিয়েছিলাম। তখনই বাঁশের ব্যারিকেড ভেঙে গেল। আমার উপর বহু মানুষ পড়ে গেল। নাবালিকা নিশা কুমারী বলে, বুকে খুব ব্যথা করছে। কম্বল নিতে যাওয়াই কাল হল। এদিন স্থানীয় তৃণমূল নেতা সুব্রত বিশ্বাস বলেন, এলাকায় বিজেপির কোনও লোক নেই। তাই কম্বল দেওয়ার জন্য বাইরে থেকে লোক আনা হয়েছিল। অকালে প্রাণগুলো ঝরে গেল।
হাসপাতালে এসে রোগীদের চিকিৎসার তত্ত্বাবধান করেন স্থানীয় তৃণমূল ব্লক সভাপতি অনিমেষ দাস, আইএনটিটিউসির জেলা সভাপতি অভিজিৎ ঘটক, আসানসোল পুরসভার চেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায়।
বিজেপি রাজ্য সম্পাদক তথা বিধায়ক লক্ষণ ঘোড়ুই বলেন, অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। কেন এত বড় ঘটনা ঘটল তা আমরা দলীয়ভাবেও তদন্ত করব। অনেক বেশি সতর্ক হওয়া প্রয়োজন ছিল। বিজেপি নেতা জিতেন্দ্র তেওয়ারিকে বারবার ফোন করা হলও তিনি ফোন কেটে দেন। পুলিস কমিশনার সুধীরকুমার নীলকান্তম বলেন, অনুষ্ঠানে কোনও পুলিসি অনুমতি নেওয়া হয়নি। ঘটনার তদন্ত চলছে।
এ ব্যাপারে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, এই মর্মান্তিক ঘটনার পিছনে বিরোধী দলনেতাই দায়ী। উনি ১২ তারিখ ধামাকার কথা বলেছেন। ওইদিন সিবিআই হেফাজতে লালন শেখের মৃত্যু হয়েছে। ১৪ তারিখে পদপিষ্ট করে তিনজনের প্রাণ কেড়ে নিলেন। উনি তো কাউকেই মানেন না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *