বালুরঘাট, ২৩ ফেব্রুয়ারী ——- ছেলেধরা আতঙ্কে মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলাকে গণপিটুনি। বৃহস্পতিবার দুপুরে এই ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় পতিরাম থানার বোল্লা মন্দির সংলগ্ন এলাকায়। ঘটনার খবর পেয়েই ডিএসপি সদরের নেতৃত্বে বিরাট পুলিশ বাহিনী এলাকায় পৌছে স্বাভাবিক করেছে পরিস্থিতি। জনরোষের মুখ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে গুরুতর আহত মানসিক ভারসাম্যহীন ওই মহিলাকে।
পুলিশ জানিয়েছে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই মহিলার নাম টগরী সুত্রধর। বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর এলাকায়। এদিন দুপুরে বোল্লা মন্দির লাগোয়া স্কুলের সামনে ভবঘুরে ওই মহিলাকে ঘোরাঘুরি করতে দেখেন স্থানীয়রা। যা দেখে কিছুটা সন্দেহ হয় বাসিন্দাদের। কেননা ইতিমধ্যে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছেলেধরার একটা আতঙ্ক সামনে এসেছে শিশুর অভিভাবকদের কাছে। যে আতঙ্কের জেরে গ্রাম গঞ্জের স্কুলগুলিতে বিগত কয়েকদিন ধরে কমতেও শুরু করেছে ছাত্র ছাত্রীর সংখ্যা। আর এরই মধ্যে ওই ভবঘুরের সন্দেহজনক গতিবিধি নজরে আসে বাসিন্দাদের মধ্যে। এরপরেই তারা একত্রিতভাবে ওই মহিলাকে ঘেরাও করে চালায় জিজ্ঞাসাবাদ, চলে তল্লাশিও। এখানেই শেষ নয়, মহিলার কাছে থাকা একটি ব্যাগ থেকে দুধ, বোতল, সাবু সহ একাধিক জিনিসপত্র উদ্ধার হতেই তুমুল হইচই পরিস্থিতি তৈরি হয়। যেসব জিনিসপত্র ওই ভবঘুরেকে খাওয়ানোর চেষ্টাও করেন বাসিন্দারা। কিন্তু সেসব খেতে না চাইতেই ছেলেধরা আতঙ্কের সন্দেহ বাড়িয়ে তোলে বাসিন্দাদের। এরপরেই তুমুল উত্তেজিত হয়ে ওই মহিলাকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন স্থানীয়রা। যে ঘটনাকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। ঘটনার খবর পেয়েই তড়িঘড়ি এলাকায় পৌছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন ডিএসপি সদর সোমনাথ ঝা এর নেতৃত্বে বিরাট পুলিশ বাহিনী। একইসাথে এলাকার বাসিন্দাদের সচেতনতার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

