পিন্টু কুন্ডু, বালুরঘাট, ৫ নভেম্বর ——- কালীপুজো, ভাইফোঁটা শেষ হতেই শুরু হয়েছে ছট পূজোর প্রস্তুতি। বাজারে বাঁশের ডালা কুলো, বিক্রির ব্যস্ততা দেখা গেলেও পিতল ও কাসার কুলোর প্রবেশে অনেকটাই হারিয়েছে বাঁশের ঐতিহ্যবাহী কদর। এই পূজোতে বাঁশের কুলো বা ডালায় ভোগ সাজিয়ে দেবতাকে উৎসর্গ করার প্রচলন থাকলেও বর্তমানে অনেকেই ঝুঁকছেন পিতল-কাসার সামগ্রীর দিকে। যার ফলে বাঁশের কুলো তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র শিল্পীরা পড়েছেন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে।
স্থানীয় বাজারগুলোতে বাঁশের কুলো ও ডালার চাহিদা থাকলেও তা ক্রমশ কমে আসছে, যার ফলে এই শিল্পের সাথে জড়িত মানুষদের আয়ও ব্যাপকভাবে কমেছে। ছট পুজোর মরসুমে বাড়তি আয়ের প্রত্যাশায় বালুরঘাটের ডাঙা বিজয়শ্রী এলাকার বেশ কয়েকটি পরিবার দিনরাত এক করে তৈরি করছেন কুলো ও ডালা। কিন্তু ক্রেতার অভাবে অনেক শিল্পীরই তৈরি সামগ্রী জমে আছে দোকানে, যা তাদের আয়-রোজগারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। তাদের কথায় ছটের সময় সাময়িক চাহিদা বেড়েছে ঠিকই, তবে বছরব্যাপী এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখার জন্য রাজ্যের কোনও বিশেষ সহায়তা নেই। ক্ষুদ্র শিল্পীরা আরো জানিয়েছেন, সরকার যদি বিশেষ কোনো উদ্যোগ না নেয়, তবে এই ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্প অচিরেই হারিয়ে যাবে। “কাঁধে কুলো নিয়ে জীবনের এতোটা পথ পার করলাম। এখন যদি কুলোই না থাকে, আমাদের আর কী হবে?” বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেশকিছু প্রবীণ ক্ষুদ্র শিল্পীরা। ছট পুজোর এই উৎসবের মরসুমে যদি বাঁশের কুলো ও ডালার জন্য একটি নির্দিষ্ট বাজার ব্যবস্থা করা যায়, তবে এই শিল্পটি হয়তো তার হারানো কদর ফিরে পাবে বলে আশা শিল্পীদের।
সুকুমার সরেন, রোজানিরা মাহালি ও প্রমিলা মাহালিরা বলেন, ছটপুজাকে ঘিরে ডালা কুলোর কিছু চাহিদা থাকলেও লাভের অঙ্ক অনেকটাই কমে গিয়েছে। অনান্য সময় তেমন বাজারে চাহিদা নেই এসব জিনিসের। সরকারিভাবে আজ অবধি কোন সহযোগিতা পাননি তারা। আগামীতে এই ক্ষুদ্র কুটিরশিল্পকে বাচিয়ে রাখায় যেন কিছুটা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের কাছে।

