বালুরঘাট,১০ নভেম্বর —-— দক্ষিণ দিনাজপুরের বোয়ালদাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের ফুলঘরা এলাকা এখন বালি মাফিয়াদের দখলে! প্রশাসনের নাকের ডগায়, নীরবতার সুযোগে চলছে অবাধে বালি পাচার। শনিবার রাতে এই অবৈধ কারবারের প্রতিবাদ করে নিজের জমিতে বাঁশের বেড়া দিয়েছিলেন জমির মালিক অজিত সরকার। আর তার জেরে ভয়ংকর প্রতিশোধ নেয় মাফিয়ারা। ধারালো অস্ত্রশস্ত্র হাতে রাতের অন্ধকারে গ্রামে হানা দিয়ে রক্তাক্ত করে ছয়জন গ্রামবাসীকে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর। ঘটনার পরেই আতঙ্কে কাপছে এলাকা, পলাতক অভিযুক্ত বালি মাফিয়ারা। ঘটনার তদন্তে বালুরঘাট থানার পুলিশ।
জানা গেছে, বোয়ালদাড় গ্রাম পঞ্চায়েতের এই ফুলঘরা এলাকায় বেশ কয়েক মাস ধরেই বেড়েছে বালি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য। প্রশাসনের চোখের সামনেই অবৈধভাবে বালি পাচার চললেও প্রশাসন কার্যত চোখ বন্ধ করে বসে আছে বলে অভিযোগ। জমির মালিক অজিত সরকারের বক্তব্য, রায়তি জমির ওপর দিয়ে এই অবৈধ চোরাকারবার চলছিল, যে দৌরাত্ম্য রুখতেই তিনি তার জমি ঘিরে দেন। কিন্তু তার এই উদ্যোগই ক্ষুব্ধ করে তোলে বালি মাফিয়াদের, এবং তাদের আক্রমণের মুখে পড়েন সাধারণ গ্রামবাসী। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, বাঁশের বেড়া দেখে ক্ষুব্ধ হয় মাফিয়ারা। স্থানীয় মাফিয়ারা সশস্ত্র অবস্থায় জমি মালিক অজিত সরকারের সঙ্গে জড়িত গ্রামবাসীদের ওপর বেপরোয়া আক্রমণ চালায়। অভিযোগ, ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় অনেককে। এই সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন ফুলঘরা গ্রামের ছয়জন বাসিন্দা, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। যারা চিকিৎসাধীন বালুরঘাট সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালে।
এদিকে ছয় অভিযুক্ত মাফিয়াদের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই আহত গ্রামবাসীদের পক্ষ থেকে বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যে অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তবে ঘটনার পর থেকেই অধিকাংশ মাফিয়ারা এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দিয়েছে। তবে এই ঘটনা নিয়ে ফুলঘরা গ্রামে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, বালি মাফিয়াদের হাত থেকে ফুলঘরাকে রক্ষা করতে প্রশাসনের অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অভিযোগ রয়েছে, প্রশাসনের একাংশের সহযোগিতায় এই অবৈধ কারবার দিনের পর দিন বেড়ে চলেছে এলাকায়। এখন দেখার বিষয়, এই ঘটনার পর প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয় এবং গ্রামবাসীদের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা হয়।
জমি মালিক অজিত সরকার বলেন, তার জমির উপর দিয়ে অবৈধ কার্যকলাপ চালাচ্ছিল বালি বাফিয়ার। যা বন্ধ করতেই বাশের ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে দিয়েছেন তিনি।
গ্রামবাসী বাপ্পাদিত্য মন্ডল, প্রমীলা সরকার ও অজয় সরকাররা বলেন, রাতের অন্ধকারে সশস্ত্র অবস্থায় অতর্কিত আক্রমণ করেছে বালি মাফিয়ারা। তারা চান এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠা হোক এবং বালি মাতিয়াদের দৌরাত্ম্য বন্ধ হোক।

