গঙ্গারামপুর ১৫ নভেম্বর দক্ষিণ দিনাজপুর:— দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তপন ব্লকের আজমতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নয়াবাজার নির্শানী এলাকায় এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। পুজোর যে সমস্ত নিয়ম রয়েছে তা পালন করা হয় ।মায়ের পুজোতে পাঠা বলিও হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে পুজো দিতে ভিড় জমালেন হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষজন।সেই সঙ্গে জমে উঠল মেলা।যা বলবে আগামী তিনদিন ধরে।
তপন ব্লকের আজমতপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের নয়াবাজারের নির্শানী গ্রামের নাম শুনলে এক সময় চমকে উঠতেন সাধারন মানুষজন বলে জানা গিয়েছে। উক্ত এলাকাটি সেই সময় ছিল জন মানব শূন্য। চারিদিকে শুধু বন জঙ্গল। সূর্য ডোবার পর তো দুরে থাক, দিনের আলোতেও নির্শানী এলাকায় কেউ যাবার সাহস পেত না।একদিকে শেয়ালের ভয়, আরেক দিকে সন্ধ্যের পর চোর,ডাকাতদের আস্থানায় পরিনত হত নির্শানী এলাকাটি। মাঝে মধ্যেই এলাকায় ঘটত চুরি ছিনতাই ও ডাকাতির মত ঘটনা। সেই সঙ্গে প্রতিদিন পথ দুর্ঘটনা লেগেই থাকত সেখানে বলে জানা গিয়েছে।
এসবের মাঝে প্রবীন নির্শানী এলাকার বাসিন্দা প্রবোধ মন্ডল নির্শানীতে সড়ক কালীর পুজো করার স্বপ্নাদেশ পান। মায়ের আদেশ পাবার পর প্রবোধ বাবু বিষয়টি নিয়ে এলাকার বাসিন্দা দ্বিগেন মন্ডল,প্রানেশ চক্রবর্তী,গৌর সেন,শ্যামল সেনদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সেই থেকে প্রতিবছর রাস পূর্নিমাতে নির্শানীতো সড়ক কালী পুজো হয়। যা এবছর ৪৮বছরে পা দিয়েছে। পুজোর শুরু হবার পর থেকে এলাকার আশপাশে জনবসতি গড়ে উঠেছে। কমেছে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মত অপরাধ মূলক ঘটনা।কমেছে দুর্ঘটনাও । এলাকাবাসীর স্থানীয় মানুষজনদের সহযোগিতায় মায়ের মন্দির সম্পূর্ণভাবে পাখা তৈরি করা হয়েছে।এবছর নিয়ম করে নির্শানী সড়ক কালী মাতার পুজো হচ্ছে। তবে এবছর মায়ের নব নির্মিত মন্দিরে পুজো হচ্ছে। পুজো ঘিরে এদিন সকাল থেকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির নজর গড়ে উঠেছে। হিন্দু ভক্তদের পাশাপাশি বহু মুসলিম ভক্তরা পুজোয় মেতে উঠেছে।
পুজো ঘিরে মন্দির চত্বরে অসংখ্য ভোগের দোকান বসেছে। সেই সাথে জমে উঠেছে মেলা।
নির্শানী সড়ক কালী মন্দিরের পুরোহিত বৈদ্যনাথ মুখার্জি বলেন,এক সময় নির্শানী এলাকা বনজঙ্গলে ঘেরা ছিল। এলাকায় কোনো বাড়ি ঘর না থাকায় দিনের বেলায় শেয়াল ঘুরে বেড়াত। প্রতিদিন নির্শানী এলাকায় পথ দুর্ঘটনা ঘটত। বেশ কয়েকজন মারাও গিয়েছিলেন। মাঝে মধ্যে ডাকাতির ঘটনা ঘটত। এলাকার প্রবীন বাসিন্দা প্রবোধ মন্ডল মায়ের পুজো করার স্বপ্নাদেশ পেয়ে পুজো শুরু করে ছিলেন। প্রতিবছর রাসপূর্নিমার মায়ের পুজো হয়। এদিন নিয়ম মেনে পুজো হচ্ছে।
পুজো কমিটির সভাপতি তথা আজমাতপুর গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান রামপ্রসাদ রায় ও পূজো কমিটির সম্পাদক অনুপ মণ্ডল বলেন,একটা সময় নির্শানী খুব ভয়ানক এলাকা ছিল। সড়ক কালীমাতার পুজোর পর থেকে এলাকায় দুর্ঘটনা কমেছে। চুরি,ছিনতাই বন্ধ হয়েছে।তারা আরো বলেন যে নির্শানী মাতা খুব জাগ্রত। যারা মানত করেন তাদের মনস্কামনা হয়। রাস পূর্ণিমার সকাল থেকে পুজো দিতে দুর দুরান্তের ভক্তদের ভিড় জমছে।
গঙ্গারামপুর পৌরসভার চেয়ারম্যান প্রশান্ত মিত্র ও সমাজ শিবি সমীর রাহারা জানান ,মায়ের নতুন মন্দির তৈরি হয়েছে। মা সকলকে ভাল রাখুক এই কামনা করি। তপন ব্লকের বিডিও তীর্থঙ্কর ঘোষ ও সমাজসেবী সুভাষ ভাওযয়াল জানিয়েছেন, রাসপূর্নিমার সন্ধ্যায় বার্ষিক পুজো হয়।রীতি অনুয়ায়ী এ বছর রাস পূর্ণিমা শুক্রবারে হওয়ায় মায়ের পুজো হচ্ছে। হিন্দু,মুসলিম সকল সম্প্রদায়ের মানুষ আমাদের পুজোয় অংশ নেয়।এবছর ভেদাভেদ ভুলে সড়ক কালীমাতার পুজোয় মেতে উঠেছি।
পুজো দিতে আসে এক ভক্ত শুক্লা দাস ও এলাকার বাসিন্দা তথা পুজোর অন্যতম কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন,ভেদাভেদ ভুলে প্রতিবছর আমরা নির্শানী কালীপুজোয় মেতে উঠি। বাইরে থেকে চাঁদা তুলতে হয় না। ভক্তদের দানে মায়ের মন্দির গড়ে তোলা হয়েছে।সেখানে এবছর পুজো হচ্ছে।মা সকলের মনোবাসনা পূর্ণ করে।
এদিন মায়ের কাছে পুজো দিতে ভক্তদের ভিড় হয়েছিল রেকর্ড পরিমাণে

