বাংলার নতুন গুড়ের চাহিদা বাড়ছে ভিন রাজ্যেও

উত্তরবঙ্গ কলকাতা খেলা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ক্যালেন্ডারেই থমকে রয়েছে হাড়কাঁপানো শীতের প্রতিশ্রুতি। ঠান্ডা এখনও কৃপণ। এর কোপ পড়েছে খেজুর গুড়ের স্বাদে। তবে তাতেও বাঙালিকে কিছুতেই দমিয়ে রাখা যাচ্ছে না। উচ্চমার্গের গুড়ের আশায় বসে না থেকে বাজারে যে মানের গুড় মিলছে তাই কিনে নিচ্ছে মানুষ। তাতে দমদার খুসবু হয়ত নেই, স্বাদেও খানিক পানসে। তবু খুশি বাঙালি। এ চিত্র যে শুধু বাংলার তা কিন্তু নয়। নলেন গুড় কিংবা পাটালি পাড়ি দিচ্ছে ভিন রাজ্য ও বিদেশেও। সার্বিকভাবে এবছর তাই গুড়ের বাজার বেশ রমরমিয়েই এগচ্ছে।
কলকাতার গুড়ের আড়ত হিসেবে নামডাক আছে শোভাবাজারের। বহু পুরনো এই আড়ত থেকে পাইকারি হারে বিক্রি হয় গুড়। এই এলাকার অন্যতম বড় ব্যবসায়ী হিসেবে শ্রীমন্ত গুড়ের আড়তের নামডাক আছে। সংস্থার কর্ণধার তন্ময় বেরা বললেন, ‘এবার খেজুর গুড়ের গুণগত মান এখনও পর্যন্ত সেরা জায়গায় পৌঁছতে পারেনি। কিন্তু যা আসছে, সেটার মানও খুব খারাপ নয়।’ বাংলাদেশ লাগোয়া তিনটি গ্রাম থেকে সেরা নলেন গুড় তাঁদের কাছে আসে বলে দাবি তন্ময়বাবুর। এছাড়াও ভালো জাতের ঝোলা গুড় আসতে শুরু করেছে বাঁকুড়ার সিমলাপাল, বিক্রমপুর আর মাচাতোড়া থেকে। নদীয়া থেকে আসছে মোটা দানার গুড়। আর আছে মাজদিয়ার হাটের গুড়। জলঙ্গীর পাটালিও আসতে শুরু করেছে গুড় আড়তে। চরিত্রগতভাবে এদের স্বাদ ও দেখনদারি আলাদা। তবে সবকটাই মন ভরায়। তন্ময়বাবু জানালেন, এবার অভাবনীয় সাড়া পাচ্ছেন অন্যান্য রাজ্যের। বললেন, ‘পুনে, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, নাগপুর, মুম্বই, মণিপুর, অসম, ভোপাল, রায়পুর, ভিলাই, ভুবনেশ্বর, চেন্নাই প্রভৃতি জায়গা থেকে অর্ডার আসছে।’ তাঁর সংস্থার হিসেব অনুযায়ী, গত বছর নভেম্বরে ২৫ কেজি ওজনের হাজার তিনেক কন্টেনার বাইরের রাজ্যে গিয়েছিল। এবছর নভেম্বরে সেই সংখ্যা প্রায় আট হাজার। গুড় ভালো রাখতে টিনের কন্টেনার সরিয়ে ভালো জাতের প্লাস্টিক ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে এবার গুড়ের গুণমান বজায় রাখার পদ্ধতি আরও উন্নত হয়েছে বলে দাবি করেন তন্ময়বাবু। এই সংস্থার অন্যতম কর্ণধার অঙ্কিতা বেরা বললেন, ‘আমরা এবার অনলাইন বুকিংয়ে সিঙ্গাপুর এবং দুবাই থেকে যেভাবে সাড়া পাচ্ছি, তা অভাবনীয়। বাংলার নতুন গুড়কে দেশের সীমানার বাইরে বিক্রি করতে পেরে আমরা খুশি।’
আবহাওয়ার কলকাঠিতে গুড়ের স্বাদ খোলতাই হচ্ছে না। তবে যে মানের গুড় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে মিষ্টি তৈরির ক্ষেত্রে সেটা খুব একটা কম যায় না। ‘মিষ্টি উদ্যোগ’-এর সম্পাদক নীলাঞ্জন ঘোষ বললেন, ‘সেরা গুড়ের সন্ধান আমরা না পেলেও, তাতে ভালোমানের মিষ্টি তৈরি থমকে নেই। কারণ গুণমানের একটি নির্দিষ্ট মাপকাঠি অতিক্রম করলে, তবেই আমরা নতুন গুড়ের মিষ্টি তৈরি শুরু করি।’ মিষ্টি উদ্যোগের যুগ্ম সম্পাদক অমিতাভ দে বললেন, ‘একদম ভালো মানের গুড় বাজারে এলে আমরা বাংলাজুড়ে শুরু করব নলেন গুড়ের ১৩ পার্বণ উৎসব। এবার আমাদের উৎসবে যোগ দেবেন আরও বেশি সংখ্যক মিষ্টান্ন প্রস্তুতকারক। বাংলার নলেন গুড়ের উদযাপনকে বাৎসরিক উৎসবে পরিণত করতে আমরা সবাই চেষ্টা চালাচ্ছি।’ -নিজস্ব চিত্র

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *