বালুরঘাট, ৮ জুন —–দক্ষিণ দিনাজপুরের আকাশে কি তবে সত্যিই উড়তে চলেছে যাত্রীবাহী বিমান? বছরের পর বছর ধরে বঞ্চনা, প্রতিশ্রুতি আর অপূর্ণতার ইতিহাস পেরিয়ে এবার জেলার বহু আকাঙ্ক্ষিত বিমান পরিষেবা চালুর স্বপ্ন যেন বাস্তবের আরও একধাপ কাছে পৌঁছে গেল। সোমবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রী রামমোহন নাইডুর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর সেই সম্ভাবনাই আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। আর এই উদ্যোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বালুরঘাটের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
তিনদিক বাংলাদেশ সীমান্তবেষ্টিত দক্ষিণ দিনাজপুর দীর্ঘদিন ধরেই যোগাযোগ ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে রাজ্যের অন্যতম পিছিয়ে থাকা জেলা হিসেবে পরিচিত। সেই জেলাকে উন্নয়নের মূল স্রোতে ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েই বিধানসভা নির্বাচনের আগে সরব হয়েছিল বিজেপি নেতৃত্ব। সরকার পরিবর্তনের পর মেডিকেল কলেজ স্থাপনের প্রক্রিয়ায় গতি আনার উদ্যোগ নেওয়ার পর এবার বিমান পরিষেবার দাবিকেও দিল্লির সর্বোচ্চ মহলে পৌঁছে দিলেন সুকান্ত।
সূত্রের খবর, কেন্দ্রের সংশোধিত ‘উড়ান’ প্রকল্পে দক্ষিণ দিনাজপুরকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রায় ২৮,৮৪০ কোটি টাকার এই বৃহৎ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য দেশের ছোট শহর, সীমান্তবর্তী এলাকা এবং প্রত্যন্ত জেলাগুলিকে দ্রুত বিমান যোগাযোগের আওতায় আনা। সেই তালিকায় বালুরঘাটের নাম উঠে আসায় স্বাভাবিকভাবেই আশাবাদী জেলার মানুষ।
একসময় বালুরঘাট বিমানবন্দর চালুর জন্য একাধিক ঘোষণা হলেও বাস্তবে তা আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে বিমানবন্দরের রানওয়ে ১৩৮০ মিটার হলেও নিয়মিত যাত্রীবাহী বড় বিমান ওঠানামার জন্য প্রয়োজন অন্তত ১৮০০ মিটার রানওয়ে। অতিরিক্ত জমি অধিগ্রহণ ও রানওয়ে সম্প্রসারণ নিয়ে বহুবার সমীক্ষা, বৈঠক এবং প্রশাসনিক আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রকল্প কার্যকর হয়নি। ফলে বিমানবন্দর ঘিরে মানুষের স্বপ্ন বারবার থমকে গিয়েছিল কাগজে-কলমেই।
তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কেন্দ্রীয় সরকারের সরাসরি আগ্রহ, বিমান পরিবহন মন্ত্রকের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা এবং জেলার উন্নয়নকে ঘিরে ধারাবাহিক উদ্যোগ— সব মিলিয়ে বালুরঘাট বিমানবন্দর ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
সুকান্ত মজুমদারের দাবি, “বিমান পরিষেবা চালু হলে দক্ষিণ দিনাজপুরে বিনিয়োগ, পর্যটন, শিল্প, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য পরিষেবার নতুন দিগন্ত খুলবে। জেলার মানুষকে আর যোগাযোগের বঞ্চনা নিয়ে বাঁচতে হবে না।
দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষার পর অবশেষে আশার আলো দেখা দিয়েছে সীমান্তের এই জেলায়। এখন প্রশ্ন একটাই— বহু বছরের স্বপ্ন কি এবার সত্যিই রানওয়ে পেরিয়ে আকাশ ছুঁতে পারবে?

