বালুরঘাট ৩ আগস্ট গঙ্গারামপুর দক্ষিণ দিনাজপুর।দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় সোমবার (৩আগস্ট)থেকে জাতীয় সড়ক ও নির্দিষ্ট প্রধান সড়কে টোটো এবং ভুটভুটির চলাচলের বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নিতে চলেছে পুলিশ প্রশাসন।রবিবার জেলা জুড়ে ট্রাফিক পুলিশ ও বিভিন্ন থানার পুলিশ প্রধান সড়কে নেমে চালকদের শেষবারের মতো সতর্ক করে জানিয়ে দিয়েছে, সোমবার থেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাতীয় সড়ক বা প্রধান রাস্তায় টোটো কিংবা ভুটভুটি চালালে সংশ্লিষ্ট গাড়ি আটক করার পাশাপাশি আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত প্রায় এক মাস ধরে জেলা পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করে জানানো হচ্ছিল, আদালতের নির্দেশ মেনে জাতীয় সড়ক ও নির্দিষ্ট প্রধান সড়কে টোটো এবং ভুটভুটির চলাচল বন্ধ করা হবে। রবিবার সেই প্রচার আরও জোরদার করা হয়। ফলে জেলার হাজার হাজার টোটো ও ভুটভুটি চালকের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।তাঁদের আশঙ্কা,সোমবার থেকেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে বহু পরিবার কার্যত জীবিকা হারানোর মুখে পড়বে।
চালকদের দাবি, অধিকাংশই ব্যাংক বা আর্থিক সংস্থা থেকে ঋণ নিয়ে টোটো কিনে সংসার চালাচ্ছেন।প্রধান সড়কে চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে আয়ের প্রধান উৎসই বন্ধ হয়ে যাবে।তাঁদের কথায়,”এভাবে চললে না খেয়ে মরতে হবে। সরকার আগে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করুক,তারপর এমন সিদ্ধান্ত নিক।”
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে,দক্ষিণ দিনাজপুরের আটটি ব্লক ও তিনটি পুরসভা এলাকায় মিলিয়ে প্রায় দেড় লক্ষ টোটো ও ভুটভুটি বিভিন্ন রুটে চলাচল করে।এর মধ্যে বালুরঘাট শহর ও ব্লক মিলিয়ে প্রায় ৬০হাজার, গঙ্গারামপুর শহর ও ব্লক মিলিয়ে প্রায় ৫৫হাজার এবং বুনিয়াদপুর এলাকায় পাঁচ হাজারেরও বেশি টোটো ও ভুটভুটি রয়েছে। জেলার ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১৩৩টি রুটে এই যানবাহন চলাচল করে। সংশ্লিষ্টদের দাবি,প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ছয় লক্ষ মানুষের জীবিকা এই পেশার সঙ্গে জড়িত।
চালকদের একাংশের বক্তব্য, আগের সরকার আমলেও আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী শহরের প্রধান সড়কে টোটো ও ভুটভুটির চলাচলে নিষেধাজ্ঞা ছিল।কিন্তু সেই নির্দেশ কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয়নি।ফলে বহু বেকার যুবক ঋণ নিয়ে টোটো কিনে জীবিকা শুরু করেন।এবার প্রশাসনের কড়া অবস্থানে তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
রবিবার বালুরঘাট, গঙ্গারামপুরের চৌপথি-সহ জেলার একাধিক এলাকায় ট্রাফিক ও থানার পুলিশ চালকদের সতর্ক করে জানিয়ে দেয়,সোমবার থেকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে কড়া আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এরপর থেকেই চালকদের উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে।
টোটো চালক সুমন সরকার,কাতিক দে,দুলাল সরকার,জিতু হালদার ও সঞ্জয় মণ্ডল বলেন,”ঋণ নিয়ে গাড়ি কিনেছি।এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে পরিবার নিয়ে পথে বসতে হবে। সরকার আগে বিকল্প ব্যবস্থা করুক।”
এবিষয়ে কালীঘাট পন্থী রাজ্য তৃণমূল নেতা গৌতম দাস বলেন, “বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না করে এমন সিদ্ধান্ত নিলে সমস্যাই বাড়বে। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করা।”
সিপিএমের জেলা নেতা পার্থ সরকার বলেন, “এত সংখ্যক মানুষ একসঙ্গে কর্মহীন হয়ে পড়লে বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা তৈরি হবে।সরকার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করলে আমরা টোটো ও ভুটভুটি চালকদের পাশে থাকব।” বিজেপির দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা সহ-সভাপতি অশোক বর্ধন বলেন, “যানজট নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন তাদের কাজ করুক।আদালতের নির্দেশ এবং আইন সকলেরই মেনে চলা উচিত।”
যদিও এবিষয়ে জেলা প্রশাসনের কোনও আধিকারিক আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ খুলতে চাননি। প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, সোমবার থেকে কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে সংশ্লিষ্ট টোটো ও ভুটভুটি আটক করে আইন অনুযায়ী কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তে একদিকে যেমন সড়ক নিরাপত্তা ও যানজট নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে, অন্যদিকে জেলার লক্ষাধিক টোটো ও ভুটভুটি চালক এবং তাঁদের পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়েও বড় প্রশ্ন উঠে পড়েছে। এখন সকলের নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের সম্ভাব্য উদ্যোগের দিকে।

