৪০বছরের কর্মজীবনের ইতি, অবসর নিয়ে বাড়ি ফিরতেই বিএসএফ আধিকারিককে ব্যান্ডপার্টি-সহ সংবর্ধনা ‘ভারত মাতা কি জয়’ ধ্বনিতে মুখর ফুলবাড়ি, রাষ্ট্রপতি পদকপ্রাপ্ত প্রাক্তন বিএসএফ আধিকারিককে ঘিরে আবেগের পরিবেশ

উত্তরবঙ্গ কলকাতা দক্ষিণবঙ্গ দেশ প্রথম পাতা বিদেশ বিনোদন রবিবার রাজ্য শরীর ও স্বাস্থ্য

 বালুরঘাট ২ আগস্ট দক্ষিণ দিনাজপুর।চার দশকের দীর্ঘ কর্মজীবনের ইতি টেনে বাড়ি ফিরলেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) ডিএসপি পদমর্যাদার অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক সুভাষচন্দ্র শীল।আর তাঁর বাড়ি ফেরা ঘিরেই উৎসবের আবহ তৈরি হল দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর ব্লকের উদয় গ্রাম পঞ্চায়েতের ফুলবাড়ি নাকর এলাকায়। রবিবার সকালে ব্যান্ডপার্টি,ফুলের মালা এবং ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগানে কয়েকশো গ্রামবাসী তাঁকে উষ্ণ সংবর্ধনা জানিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেন।
জানা গিয়েছে, ১৯৮৬ সালের ১৭ অক্টোবর বিএসএফ-এ কনস্টেবল পদে কর্মজীবন শুরু করেন সুভাষচন্দ্র শীল। দীর্ঘ ৪০ বছরের কর্মজীবনে নিষ্ঠার সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। অবসরের আগে ত্রিপুরার আগরতলায় ৩৩ ব্যাটালিয়ন বিএসএফ হেডকোয়ার্টারে ডিএসপি পদমর্যাদায় কর্মরত ছিলেন।কর্মজীবনে অসামান্য অবদানের জন্য রাষ্ট্রপতি পদক ও পুলিশ মেডেল-সহ একাধিক সম্মানে ভূষিত হয়েছেন তিনি।
রবিবার সকালে গঙ্গারামপুরের ফুলবাড়ি বাজার থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাঁকে সংবর্ধনা জানানো হয়।ব্যান্ডপার্টির তালে তালে গ্রামবাসীরা তাঁকে বাড়ি পর্যন্ত নিয়ে যান। এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন উত্তম মহন্ত, নিতাই রায়, নীরেন বসাক, তপন বসাক, বকুল মণ্ডল, বলাই বর্মন ও সুকুমার হালদার-সহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অবসরপ্রাপ্ত বিএসএফ আধিকারিক সুভাষচন্দ্র শীল বলেন, “দেশের সেবা করার সুযোগ পেয়েছি, এটাই আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। অবসরের পর বাড়ি ফিরে গ্রামবাসীদের কাছ থেকে যে ভালোবাসা ও সম্মান পেলাম, তা কোনওদিন ভুলব না। সকলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।”
তাঁর স্ত্রী শিখা শীল ও শাশুড়ি মায়া শীল বলেন,”দীর্ঘদিন দেশের সেবার জন্য বাড়ির বাইরে ছিলেন।সবসময় উদ্বেগে কাটত।এখন সুস্থভাবে বাড়ি ফিরেছেন। গ্রামবাসীরা যেভাবে সম্মান জানিয়েছেন,তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।”
এলাকার বাসিন্দা নিমাই রায় বলেন, “দীর্ঘ ৪০বছর দেশের নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছেন সুভাষবাবু।তাঁর এই অবদানের প্রতি সম্মান জানাতেই গ্রামবাসীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁকে সংবর্ধনা দিয়েছেন।এটি আমাদের সকলের কাছে গর্বের মুহূর্ত।”
দেশসেবার দীর্ঘ অধ্যায় শেষ করে নিজের গ্রামে ফিরে এমন উষ্ণ সংবর্ধনা পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রাক্তন বিএসএফ আধিকারিক। এলাকাবাসীর এই উদ্যোগে গোটা ফুলবাড়ি নাকর এলাকায় ছিল উৎসবের আবহ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *