বালুরঘাট ১১আগস্ট দক্ষিণ দিনাজপুর ।গঙ্গারামপুর ব্লকের উদয় গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল পরিচালিত প্রধানের বৈঠককে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার উত্তেজনা ছড়াল। তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতির ঘটনায় উভয় পক্ষের মোট পাঁচজন আহত হন বলে খবর। খবর পেয়ে ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ওসি নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।
মঙ্গলবার ১১ নাগাদ গঙ্গারামপুর ব্লকের ১০ নম্বর উদয় গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকা বৈঠককে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার দুপুরে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়ায়। বৈঠক শুরুর আগেই পঞ্চায়েত চত্বরে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে বচসা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মোট পাঁচজন আহত হন বলে জানা গিয়েছে। আহতদের মধ্যে তৃণমূলের তিনজন এবং বিজেপির দু’জন সমর্থক রয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে ফুলবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ক্যাম্পের ওসির নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, গঙ্গারামপুর ব্লকের ১০নম্বর উদয় গ্রাম পঞ্চায়েতের মোট আসন ২২টি। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস ১৭টি,বিজেপি ৪টি এবং সিপিএম ১টি আসনে জয়ী হয়। এরপর প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন তৃণমূলের অসিতবরণ কুণ্ডু। গত ৩ আগস্ট প্রধানের বিরুদ্ধে ফুলবাড়ি পঞ্চায়েত অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন বিজেপি নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। মঙ্গলবার উন্নয়নমূলক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বৈঠক ডাকা হয়েছিল তৃণমূলের ওই প্রধানের তরফে।তবে গোলমালের খবর পেয়ে এদিন আর পঞ্চায়েতে যাননি প্রধান অসিতবরণ কুণ্ডু।
প্রধান অসিতবরণ কুণ্ডু বলেন, “আমি নিয়মিত পঞ্চায়েতে কাজ করি। আমাকে জোর করে ইস্তফা দিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। আমি তাতে রাজি হইনি।উন্নয়নের কাজ আরও দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যই বৈঠক ডেকেছিলাম।কিন্তু উল্টে আমাদের সঙ্গেই ঝামেলা করা হয়েছে।”
অন্যদিকে বিজেপি নেতা শংকর চৌধুরী বলেন,“প্রধান নিয়মিত পঞ্চায়েতে না আসায় উন্নয়নের কাজ থমকে রয়েছে।এলাকার বাসিন্দারাও চাইছেন তিনি পদত্যাগ করুন। সেই দাবিতেই আমরা সেখানে গিয়েছিলাম।”
পুলিশ জানিয়েছে, পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় কারা জড়িত এবং কীভাবে উত্তেজনার সৃষ্টি হল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

