বালুরঘাট ৪ আগস্ট দক্ষিণ দিনাজপুর:শিশুসহ সকল মানুষের জলে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব জলে ডোবা প্রতিরোধ দিবস।২০২১সালের এপ্রিল মাসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার উদ্যোগে এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। পরিসংখ্যান বলছে, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় তিন লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয় জলে ডুবে।সেই প্রেক্ষাপটে ২০২৬সালের মূল প্রতিপাদ্য ‘ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগে জলে ডোবার ঝুঁকি রোধকে সামনে রেখে সিনির উদ্যোগে দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার বংশীহারী গ্রামীণ হাসপাতালে পালিত হলো বিশ্ব জলে ডোবা প্রতিরোধ দিবস ২০২৬।
এই কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য ছিল জলে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি কমানো এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।এদিন বুনিয়াদপুর শহরে প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে একটি বর্ণাঢ্য সচেতনতা র্যালি বের করা হয়। পরে অতিথিদের উত্তরীয় ও ফুলের তোড়া দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয়। অনুষ্ঠানে সিনি-র বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ক কর্মকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি জলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা রোধে কীভাবে সাধারণ মানুষ সচেতন ভূমিকা নিতে পারেন, সে বিষয়েও বিস্তারিত বার্তা দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বংশীহার ব্লকের বিডিও রোহন ঘোষ,বংশীহারী থানার আইসি স্বপন বিশ্বাস, ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্রের আধিকারিক ডাঃ পুলকেশ সাহা, সিনিয়র জনস্বাস্থ্য নার্স দীপ্তি মহাপাত্র ও নাজমিন খাতুন, ব্লক কর্মসূচি সমন্বয়কারী (আশা)আশুতোষ ঘোষ ও জ্যোৎস্না মুর্মু, বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এএনএম, আশা কর্মী, আইসিডিএস প্রকল্পের সুপারভাইজার অমিতা দত্ত,বংশীহারী উচ্চ বিদ্যালয় ও বংশীহারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী, ড্রাউনিং প্রিভেনশন প্রকল্পের জেলা সমন্বয়কারী গৌতম হালদার-সহ মাস্টার ও কমিউনিটি প্রশিক্ষকরা।বংশীহারী ব্লকের বিডিও রোহন ঘোষ বলেন,”জলে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে শিশুদের প্রতি অভিভাবকদের নজরদারি বাড়ানো এবং জলাশয়ের পাশে নিরাপত্তাবিধি মেনে চলার ওপর তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন।”
বংশীহারী থানার আইসি স্বপন বিশ্বাস বলেন, “জলে ডুবে মৃত্যুর অধিকাংশ ঘটনাই সামান্য সচেতনতার অভাবে ঘটে। বিশেষ করে শিশুদের কখনও একা জলাশয়ের ধারে যেতে দেওয়া উচিত নয়। পরিবার, বিদ্যালয় এবং প্রশাসন সকলকে একসঙ্গে এগিয়ে এসে সচেতনতা বাড়াতে হবে। তাহলেই এই ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।”
বংশীহারী ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ পুলকেশ সাহা বলেন,”জলে ডোবার পর দ্রুত প্রাথমিক চিকিৎসা এবং সঠিক সময়ে জীবনরক্ষাকারী পদক্ষেপ নেওয়া গেলে বহু প্রাণ বাঁচানো সম্ভব। তাই এই ধরনের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সিনিয়র জনস্বাস্থ্য নার্স নাজমিন খাতুন বলেন,” গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যকর্মী, আশা কর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জলে ডোবা প্রতিরোধ সম্পর্কে সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।সকলের সম্মিলিত উদ্যোগেই এই ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে উপস্থিত সকলের সামনে ডি-আর-এস-এ-বি-সি (প্রাথমিক জীবনরক্ষাকারী মূল্যায়ন পদ্ধতি) এবং সি-পি-আর (হৃদ্যন্ত্র ও শ্বাস-প্রশ্বাস সচল রাখার জরুরি কৌশল) হাতে-কলমে প্রদর্শন করা হয়। জীবনরক্ষাকারী এই প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়েই দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

